ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া নিয়ে যা বললেন ফ্রান্সের কোচ নরসিংদীতে ভারি বৃষ্টিতে মাটির দেয়াল ধসে স্কুলছাত্রী নিহত শেয়ারবাজারের কারসাজিকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা বাড়ল উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: শিক্ষার্থী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা হাইকমিশনারের সরকারি অর্থের অপচয় রোধে বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি কেনায় কড়াকড়ি আট বিভাগীয় শহরে কনসার্ট করবে সোনার বাংলা সার্কাস বিশ্বকাপে কেন শেষ মুহূর্তে হেরে যাচ্ছে আফ্রিকান দলগুলো যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে সাহাবীর হত্যা মামলায় বাবা-ছেলে কারাগারে

বিশ্বকাপে কেন শেষ মুহূর্তে হেরে যাচ্ছে আফ্রিকান দলগুলো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

গত নভেম্বরে ইতালির তৎকালীন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশের কোটা বৃদ্ধি নিয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একসময় আফ্রিকা থেকে মাত্র দুটি দল বিশ্বকাপে খেলত, অথচ এবার খেলছে ৯টি দল। বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়েও ইতালিকে প্লে-অফ খেলতে হয়েছে, কিন্তু আফ্রিকান দলগুলো সরাসরি টিকিট পাওয়ায় তিনি কিছুটা অসন্তোষই প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইতালি বিশ্বকাপে জায়গা না পেলেও, আফ্রিকান দলগুলো তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৬টি বেড়ে যাওয়ায় আফ্রিকা থেকে ১০টি দল সুযোগ পেয়েছিল। তিউনিসিয়া বাদে বাকি সব আফ্রিকান দল গ্রুপ পর্বের বাধা টপকালেও, নকআউট পর্বে এসে তাদের ছন্দপতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছে কেবল মরক্কো। বাদ পড়া দলগুলোর বেশিরভাগই বিদায় নিয়েছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে।

মিসরের কথাই ধরা যাক, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটের জাদুতে জয় হাতছাড়া করে। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পরও ৭৮ মিনিটের পর থেকে মিসর খেই হারিয়ে ফেলে। একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে কেপ ভার্দেকেও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-১ এবং অতিরিক্ত সময়ে ২-২ সমতা থাকলেও ১১১ মিনিটে দিনেই বোর্হেসের আত্মঘাতী গোল তাদের বিদায় নিশ্চিত করে।

আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে সেনেগালের গল্পটি সবচেয়ে করুণ। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করেও শেষ ৫ মিনিটে সমতা এবং অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ৯১ মিনিটে কানাডার বিপক্ষে গোল খেয়ে, আইভরিকোস্ট ৮৬ মিনিটে নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল খেয়ে এবং ডিআর কঙ্গো ৭৫ মিনিটের পর হ্যারি কেইনের একক নৈপুণ্যের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

প্রতিটি ম্যাচের চিত্র প্রায় একই। আফ্রিকান দলগুলো ম্যাচের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে না পারায় রক্ষণের শৃঙ্খলা হারিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে গোল করার সুযোগ করে দিচ্ছে। চাপের মুখে এই মানসিক দুর্বলতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপে কেন শেষ মুহূর্তে হেরে যাচ্ছে আফ্রিকান দলগুলো

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
print news

গত নভেম্বরে ইতালির তৎকালীন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশের কোটা বৃদ্ধি নিয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একসময় আফ্রিকা থেকে মাত্র দুটি দল বিশ্বকাপে খেলত, অথচ এবার খেলছে ৯টি দল। বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়েও ইতালিকে প্লে-অফ খেলতে হয়েছে, কিন্তু আফ্রিকান দলগুলো সরাসরি টিকিট পাওয়ায় তিনি কিছুটা অসন্তোষই প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইতালি বিশ্বকাপে জায়গা না পেলেও, আফ্রিকান দলগুলো তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৬টি বেড়ে যাওয়ায় আফ্রিকা থেকে ১০টি দল সুযোগ পেয়েছিল। তিউনিসিয়া বাদে বাকি সব আফ্রিকান দল গ্রুপ পর্বের বাধা টপকালেও, নকআউট পর্বে এসে তাদের ছন্দপতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছে কেবল মরক্কো। বাদ পড়া দলগুলোর বেশিরভাগই বিদায় নিয়েছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে।

মিসরের কথাই ধরা যাক, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটের জাদুতে জয় হাতছাড়া করে। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পরও ৭৮ মিনিটের পর থেকে মিসর খেই হারিয়ে ফেলে। একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে কেপ ভার্দেকেও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-১ এবং অতিরিক্ত সময়ে ২-২ সমতা থাকলেও ১১১ মিনিটে দিনেই বোর্হেসের আত্মঘাতী গোল তাদের বিদায় নিশ্চিত করে।

আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে সেনেগালের গল্পটি সবচেয়ে করুণ। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করেও শেষ ৫ মিনিটে সমতা এবং অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ৯১ মিনিটে কানাডার বিপক্ষে গোল খেয়ে, আইভরিকোস্ট ৮৬ মিনিটে নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল খেয়ে এবং ডিআর কঙ্গো ৭৫ মিনিটের পর হ্যারি কেইনের একক নৈপুণ্যের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

প্রতিটি ম্যাচের চিত্র প্রায় একই। আফ্রিকান দলগুলো ম্যাচের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে না পারায় রক্ষণের শৃঙ্খলা হারিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে গোল করার সুযোগ করে দিচ্ছে। চাপের মুখে এই মানসিক দুর্বলতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।