অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সহজলভ্যতা ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে : রংপুরে অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো বন্ধের দাবি
- আপডেট সময় : ০৬:১৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর
আজ (১২ এপ্রিল) রবিবার
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সহজলভ্যতা ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। সহজ লাভের প্রলোভনে পড়ে বহু তরুণ নিঃস্ব হয়ে গেছে, ভাঙছে পরিবার, হারাচ্ছে কর্মসংস্থান। এমন বাস্তবতার মধ্যেই অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো সাইট দ্রুত বন্ধের দাবিতে ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকেরা। তাঁরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অদৃশ্য আসক্তি আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
এ সময় নগরীর রবার্টসনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. বাঁধন বলেন, ‘আমি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতাম। নিজের একটি বাড়ি করার স্বপ্ন থেকে বাড়তি উপার্জনের নেশায় একটু একটু করে জুয়ায় জড়িয়ে পড়ি। শুরুতে ১০০-২০০ টাকা দিয়ে খেলা শুরু করলেও ধীরে ধীরে তা হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকে। একপর্যায়ে পরিচিত মানুষের কাছে ঋণী হয়ে পড়ি। বর্তমানে ব্যাংক লোন এবং কিস্তিসহ আমার প্রায় ১ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছে। জুয়ার কারণে আমি এতটাই নিঃস্ব যে, জীবন দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছিলাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমি এই অন্ধকার পথ থেকে সম্পূর্ণ ফিরে এসেছি। আমার মতো কেউ যেন এ পথে না যায়। দেশে অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো সাইটগুলো বন্ধ করতে হবে।’
সমাবেশে বক্তারা অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে এ ক্ষতিকর আসক্তি থেকে রক্ষায় সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাদ্দাম হোসেন জানান, ‘অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো বর্তমান সময়ের এক নব্য ক্যানসার, যা তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বয়সের শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। ক্যাসিনোয় নিঃস্ব হয়ে রংপুরের এক ছোট ভাই ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেছে এবং অনেকে ভিটেমাটি ও চাকরি হারিয়েছে। বর্তমান আইনে অপরাধীদের সাজা ও জরিমানা অত্যন্ত নগণ্য। আমরা চাই এই আইন সংশোধন করে সাইট পরিচালনাকারীদের সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হোক এবং তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক। একই সঙ্গে আসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিতে হবে। এসব সাইট বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

























