ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ অনুষ্ঠিত কুশিয়ারা এলাকায় নেশাগ্রস্ত ছেলের আগুন, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল শিশু সন্তান সকালে থেকে রাজধানী ঢাকাতে মুষলধারে বৃষ্টি নিউ মার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন গুলিতে নিহত সাতকানিয়াতে সন্ত্রাসী হামলায় জামায়াত কর্মী নিহত নরসিংদীতে নেশাখোর স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন ইউনিয়ন পরিষদে ৮০টির বেশি সেবা কাগজে-কলমে, বাস্তবে মিলছে মাত্র কয়েকটি বঞ্চনায় সাধারণ মানুষ তিনদিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন নাগেশ্বরীতে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৩

রাজধানী সহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্প যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু

রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় দেশের পেট্রোল পাম্প গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

২২ মার্চ রবিবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা সহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্প গুলোর অবস্থা খুবই করুণ, কারণ কোম্পানি থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা, একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনের অভ্যাস না থাকায় শারীরিক ও মানসিক ভাবে চাপে পড়ছেন পাম্পে কর্মরতরা, সবমিলিয়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্প গুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এর আগে, পেট্রোল পাম্পের তেল বিক্রিতে নিরাপত্তার প্রয়োজন বলে সংগঠনটি জানায়, তবে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার ও জেলা প্রশাসন কার্যত উপেক্ষা করছে, পাম্প গুলোতে তেল বিক্রির সময় কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে তাদের দাবি।

সংগঠনটির দাবি, ঈদের আগের দিন ১টি জেলা শহরের ১টি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল, তাদের আরেকটি পাম্পে ছিল প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি, স্বাভাবিক হিসাবে এই মজুত কয়েকদিন বিক্রি করার কথা থাকলেও হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়, এই পরিস্থিতিকে তারা ১ ধরনের লুটতরাজ বলে উল্লেখ করেছেন।

একেকজন দৈনিক একাধিকবার তেল নিতে আসছেন বলে অভিযোগ করে তারা জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তেল বিক্রি করছে পাম্প গুলো, কিন্তু অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন, আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েই বারবার তেল নিতে আসছেন, এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ভাবে পাম্পে এসে মব সৃষ্টি করে পেট্রোল পাম্প খুলিয়ে জোর পূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের ১টি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনা সব পেট্রোল পাম্প মালিকদের ভাগ্যেই ঘটতে চলেছে, এখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তা বিষয়ক ইস্যু গুলো আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে, এ পরিস্থিতিতে ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, ট্যাংকার গুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের আগের দিন রাতে অনেক পেট্রোল পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মাত্র ২০০ লিটার অকটেনও সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়নি, জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, তাই পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে ডিপো থেকে তেল লিফটিং (সংগ্রহ) বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রাজধানী সহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্প যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
print news

ফখরুল আলম সাজু

রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় দেশের পেট্রোল পাম্প গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

২২ মার্চ রবিবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা সহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্প গুলোর অবস্থা খুবই করুণ, কারণ কোম্পানি থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা, একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনের অভ্যাস না থাকায় শারীরিক ও মানসিক ভাবে চাপে পড়ছেন পাম্পে কর্মরতরা, সবমিলিয়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্প গুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এর আগে, পেট্রোল পাম্পের তেল বিক্রিতে নিরাপত্তার প্রয়োজন বলে সংগঠনটি জানায়, তবে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার ও জেলা প্রশাসন কার্যত উপেক্ষা করছে, পাম্প গুলোতে তেল বিক্রির সময় কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে তাদের দাবি।

সংগঠনটির দাবি, ঈদের আগের দিন ১টি জেলা শহরের ১টি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল, তাদের আরেকটি পাম্পে ছিল প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি, স্বাভাবিক হিসাবে এই মজুত কয়েকদিন বিক্রি করার কথা থাকলেও হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়, এই পরিস্থিতিকে তারা ১ ধরনের লুটতরাজ বলে উল্লেখ করেছেন।

একেকজন দৈনিক একাধিকবার তেল নিতে আসছেন বলে অভিযোগ করে তারা জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তেল বিক্রি করছে পাম্প গুলো, কিন্তু অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন, আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েই বারবার তেল নিতে আসছেন, এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ভাবে পাম্পে এসে মব সৃষ্টি করে পেট্রোল পাম্প খুলিয়ে জোর পূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের ১টি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনা সব পেট্রোল পাম্প মালিকদের ভাগ্যেই ঘটতে চলেছে, এখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তা বিষয়ক ইস্যু গুলো আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে, এ পরিস্থিতিতে ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, ট্যাংকার গুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের আগের দিন রাতে অনেক পেট্রোল পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মাত্র ২০০ লিটার অকটেনও সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়নি, জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, তাই পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে ডিপো থেকে তেল লিফটিং (সংগ্রহ) বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।