ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরীক্ষার আগের দিনও প্রবেশপত্র পায়নি ২৯ পরীক্ষার্থী প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ রূপগঞ্জে জমি বিরোধে বিধবার দোকানে ভাঙচুর, ৭টিতে তালা দেওয়ার অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে যুবকের আত্মহত্যা নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরে তেলের সংকট ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না জ্বালানি পরশুরামে স্কুল শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মৃত্যু নওগাঁয় খাবারের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আহত ৪, লুট ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহনের ভাড়া সুনামগঞ্জের বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু নেত্রকোনায় স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক

নির্মাণাধীন ভবন যেন মৃত্যুফাঁদ

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ১১৫ বার পড়া হয়েছে

নির্মাণাধীন ভবন যেন মৃত্যুফাঁদ

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:

নির্মাণাধীন ভবনগুলো যেন এক একটি মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠছে ঢাকা নগরীতে। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত নির্মাণাধীন ভবন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন পঁচিশ জন । অধিকাংশ ভবন মালিক নতুন ভবন নির্মাণে শ্রমিক এবং পথচারীদের নিরাপত্তায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মানছেন না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনগুলো শ্রমিক ও পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া ঢাকা মহানগরীর সেক্টর-০১ , রোড ০৪, ব্লক-এম,  বাড়ি-১২/১৪  হাউজিং সোসাইটি আফতাবনগর  নির্মাণাধীন একটি ভবন

১০ই জুলাই সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেক্টর ১ এর রোড ৪ এর বাড়ি ১২/১৪ একটি ভবন এর কন্সট্রাকশন এর কাজ চলছে কিন্তু ভবনের চারপাশে যে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার কথা সেখানে ছিলো না এমনকি কন্সট্রাকশন এর যারা কাজ করছেন ভবনের উপরে তাদের কোন সেফটি বেল্ট ছিলো না।

ভবনটির দুই পাশেই সরু রাস্তা পথচারীদের নিরাপত্তা রক্ষা করেননি ভবনটি তৈরি করার সময় অথচ রাজউক কর্তৃপক্ষ ভবন তৈরির নীতিমালায় শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তা বিধিমালা মেনে নিয়ে ইমারত এর কাজ করার কথা কিন্তু এই ভবনের ১৪ জন মালিক এই নীতিমালা না মেনেই কাজ করে যাচ্ছেন।

আমাদের একটি টিম সরেজমিনে গিয়ে ভবনটির নিরাপত্তা কর্মীর সাথে কথা বলে জানতে পারি যে , ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত ছিল না অথচ ভবনটির কাজ চলছে ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত ছাড়াই, সুউচ্চ ভবন নির্মাণে কর্মচারীরা সেফটি বেল্ট ছাড়াই ঝুলে ঝুলে কাজ করছেন, তাদের মাথায় হেলমেট নেই, পায় বুট নেই এবং নয় তলা ভবনটির চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই।

ভবনটির মালিক ১৪ জনের মধ্যে দুই জন মোঃ আরিফ তার বাসা খিলগাঁও এবং মাহমুদুল হাসান তিনি জনতা ব্যাংকের একজন কর্মী। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম যে, এই বিষয়ে তারা অবগত আছেন  এবং  তাদের এটা নিজস্ব গাফিলতি এটা প্রমাণ পেয়েছি আমরা।

সব ঘটনায় ভবন নির্মাণের বিধি উপেক্ষিত ছিল। এতে নির্মাণ শ্রমিকরা যেমন অনিরাপদ, তেমনি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে পথচারীদেরও।

বছরে আড়াই হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়ে থাকে ঢাকা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ভবন নির্মাণে শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তায় ইমারতবিধি অনুযায়ী ভবনের চারদিকে জাল দিয়ে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে। তবে ভবন নির্মাণ শুরু করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মালিক কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়মের তোয়াক্কা করে না। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা বড় দুর্ঘটনা।

এই সম্পর্কে আমাদের সাথে কথা হয় রাজউক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম এর সাথে। তিনি আমাদের বলেন এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এর মাধ্যমে দরখাস্ত দিয়ে যেতে তারা তাদের টিম নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই বলে আমাদের আশ্বাস তিনি দেন।

এরপর আমরা জোন ৬/১ এর পরিদর্শক এর সাথে কথা বলেন, তিনি বলেন, নিয়ম হচ্ছে কোনো ভবনের কাজ শুরু করার আগে মালিকপক্ষ সিডিএকে জানাতে হয় যে তারা ভবনের কাজটা শুরু করছে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই কাজটা অধিকাংশ ভবন মালিকরা করে না।
এবং বিভিন্ন প্রপার্টিজ গুলো নির্মানাধীন ভবন নির্মাণে কোন নিয়ম মানছে না এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং মালিকের বিরুদ্ধেও একই ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

নির্মাণাধীন ভবন যেন মৃত্যুফাঁদ

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
print news

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:

নির্মাণাধীন ভবনগুলো যেন এক একটি মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠছে ঢাকা নগরীতে। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত নির্মাণাধীন ভবন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন পঁচিশ জন । অধিকাংশ ভবন মালিক নতুন ভবন নির্মাণে শ্রমিক এবং পথচারীদের নিরাপত্তায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মানছেন না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনগুলো শ্রমিক ও পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া ঢাকা মহানগরীর সেক্টর-০১ , রোড ০৪, ব্লক-এম,  বাড়ি-১২/১৪  হাউজিং সোসাইটি আফতাবনগর  নির্মাণাধীন একটি ভবন

১০ই জুলাই সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেক্টর ১ এর রোড ৪ এর বাড়ি ১২/১৪ একটি ভবন এর কন্সট্রাকশন এর কাজ চলছে কিন্তু ভবনের চারপাশে যে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার কথা সেখানে ছিলো না এমনকি কন্সট্রাকশন এর যারা কাজ করছেন ভবনের উপরে তাদের কোন সেফটি বেল্ট ছিলো না।

ভবনটির দুই পাশেই সরু রাস্তা পথচারীদের নিরাপত্তা রক্ষা করেননি ভবনটি তৈরি করার সময় অথচ রাজউক কর্তৃপক্ষ ভবন তৈরির নীতিমালায় শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তা বিধিমালা মেনে নিয়ে ইমারত এর কাজ করার কথা কিন্তু এই ভবনের ১৪ জন মালিক এই নীতিমালা না মেনেই কাজ করে যাচ্ছেন।

আমাদের একটি টিম সরেজমিনে গিয়ে ভবনটির নিরাপত্তা কর্মীর সাথে কথা বলে জানতে পারি যে , ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত ছিল না অথচ ভবনটির কাজ চলছে ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত ছাড়াই, সুউচ্চ ভবন নির্মাণে কর্মচারীরা সেফটি বেল্ট ছাড়াই ঝুলে ঝুলে কাজ করছেন, তাদের মাথায় হেলমেট নেই, পায় বুট নেই এবং নয় তলা ভবনটির চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই।

ভবনটির মালিক ১৪ জনের মধ্যে দুই জন মোঃ আরিফ তার বাসা খিলগাঁও এবং মাহমুদুল হাসান তিনি জনতা ব্যাংকের একজন কর্মী। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম যে, এই বিষয়ে তারা অবগত আছেন  এবং  তাদের এটা নিজস্ব গাফিলতি এটা প্রমাণ পেয়েছি আমরা।

সব ঘটনায় ভবন নির্মাণের বিধি উপেক্ষিত ছিল। এতে নির্মাণ শ্রমিকরা যেমন অনিরাপদ, তেমনি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে পথচারীদেরও।

বছরে আড়াই হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়ে থাকে ঢাকা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ভবন নির্মাণে শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তায় ইমারতবিধি অনুযায়ী ভবনের চারদিকে জাল দিয়ে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে। তবে ভবন নির্মাণ শুরু করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মালিক কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়মের তোয়াক্কা করে না। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা বড় দুর্ঘটনা।

এই সম্পর্কে আমাদের সাথে কথা হয় রাজউক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম এর সাথে। তিনি আমাদের বলেন এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এর মাধ্যমে দরখাস্ত দিয়ে যেতে তারা তাদের টিম নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই বলে আমাদের আশ্বাস তিনি দেন।

এরপর আমরা জোন ৬/১ এর পরিদর্শক এর সাথে কথা বলেন, তিনি বলেন, নিয়ম হচ্ছে কোনো ভবনের কাজ শুরু করার আগে মালিকপক্ষ সিডিএকে জানাতে হয় যে তারা ভবনের কাজটা শুরু করছে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই কাজটা অধিকাংশ ভবন মালিকরা করে না।
এবং বিভিন্ন প্রপার্টিজ গুলো নির্মানাধীন ভবন নির্মাণে কোন নিয়ম মানছে না এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং মালিকের বিরুদ্ধেও একই ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিত।