নিমানাধীন ভ্রমন যেন এক মৃত্যু ফাঁদ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০৮ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
ক্রাইম রিপোর্টার:
রাজধানী ঢাকা নির্মাণাধীন ভবনগুলো যেন এক একটি মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠছে ঢাকা নগরীতে। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত নির্মাণাধীন ভবন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আঠাশ জন। অধিকাংশ ভবন মালিক নতুন ভবন নির্মাণে শ্রমিক এবং পথচারীদের নিরাপত্তায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মানছেন না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনগুলো শ্রমিক ও পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ বনশ্রীতে পেন্টাগন ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর নির্মাণাধীন একটি ভবন।
১৭ই সেপ্টেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ বনশ্রীতে পেন্টাগন ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর ভবনের কন্সট্রাকশনের কাজ চলছে কিন্তু ভবনের চারপাশে যে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার কথা সেখানে এক পাশে সরু রাস্তা এবং বিল্ডিং এর রাস্তার পাশেই কোন রকম নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিল না, আমাদের দৈনিক যখন সময় গাড়ি যাওয়ার পথে কন্সট্রাকশন ভবনের দিকে দৃষ্টি গেলে দেখা যায় কনস্ট্রাকশনের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে ঝুলে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি কন্সট্রাকশন এর যারা কাজ করছেন ভবনের উপরে তাদের কোন সেফটি বেল্ট ছিলো না।
ভবনটির পাশেই সরু বড় রাস্তা। যে পাশে কাজ করছেন সেই পাশেও কোন নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিল না। কর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষা করেননি ভবনটি তৈরি করার সময় অথচ রাজউক কর্তৃপক্ষ ভবন তৈরির নীতিমালায় শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তা বিধিমালা মেনে নিয়ে ইমারত এর কাজ করার কথা কিন্তু এই ভবনের এই নীতিমালা না মেনেই কাজ করে যাচ্ছেন ।
আমাদের দৈনিক যখন সময় একটি টিম ,সরেজমিনে গিয়ে ভবনটির ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এমন অসতর্কভাবে কাজ করাচ্ছেন কিন্তু তারা তাদের কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু করার আগে যে কাগজে নিয়মতান্ত্রিক নিরাপত্তার যে সুনির্দিষ্ট ভাবে লিখা থাকে তা পালন করছেন না।
সুউচ্চ ভবন নির্মাণে কর্মচারীরা সেফটি বেল্ট ছাড়াই ঝুলে ঝুলে কাজ করছেন , তাদের মাথায় হেলমেট নেই , পায় বুট নেই এইসব নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কনস্ট্রাকশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি ০৭ তলা ভবন নির্মাণে ৩ তলার পর থেকে কোন নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিল না। শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানতে পারি তাদের নিজেদের সেফটির জন্য ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার এবং কনস্ট্রাকশনের থেকে কোন ব্যবস্থা নেননি এবং পেন্টাগন ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং এর কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান। হামিদুর রহমানের সাথে ফোন কলে কথা বলার সময় তিনি আমাদের সাথে অভদ্র আচরণ করেন এবং রাজউক নাকি সেফটির বিষয়ে বলেনাই, এবং তাদের এটা নিজস্ব গাফিলতি এটা প্রমাণ পেয়েছি আমরা।
আর এইসব অনিয়ম জনগণের এবং কর্মীদের অনিরিপত্তা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে ডেভলপার, ইঞ্জিনিয়ার এবং বিল্ডিংয়ের মালিক পক্ষ ।
পেন্টাগন ডেভেলপমেন্ট এর একজন প্রবীণ ইঞ্জিনিয়ার মোখলেছুর রহমান আমাদের গতকাল ফোন কলে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন বারবার এবং সময়ক্ষেপণ করেছেন ।
সব ঘটনায় ভবন নির্মাণের বিধিমালা উপেক্ষিত ছিল। এতে নির্মাণ শ্রমিকরা যেমন অনিরাপদ, তেমনি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে পথচারীদেরও।
রাজউকের কাছে আমাদের প্রশ্ন যে অনিয়ম আর অসতর্ক মূলক কাজে নিয়োজিত এবং
বিধিমালা অনুযায়ী কিভাবে তাদের কোম্পানিদের লাইসেন্স দিয়ে থাকেন।
বছরে আড়াই হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়ে থাকে ঢাকা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ভবন নির্মাণে শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তায় ইমারতবিধি অনুযায়ী ভবনের চারদিকে জাল দিয়ে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে। তবে ভবন নির্মাণ শুরু করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মালিক কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়মের তোয়াক্কা করে না। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা বড় দুর্ঘটনা।
এই সম্পর্কে আমাদের সাথে কথা হয় রাজউক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম এর সাথে । তিনি আমাদের বলেন এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এর মাধ্যমে দরখাস্ত দিয়ে যেতে তারা তাদের টিম নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই বলে আমাদের আশ্বাস তিনি দেন ।
এরপর আমরা জোন ৬/১ এর পরিদর্শক এর সাথে কথা বলে তিনি বলেন,
নিয়ম হচ্ছে কোনো ভবনের কাজ শুরু করার আগে মালিকপক্ষ সিডিএকে জানাতে হয় যে তারা ভবনের কাজটা শুরু করছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই কাজটা অধিকাংশ ভবন মালিকরা করে না।
এবং বিভিন্ন প্রপার্টিজ গুলো নির্মানাধীন ভবন নির্মাণে কোন নিয়ম মানছে না এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং মালিকের বিরুদ্ধেও একই ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিত।























