ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরশুরামে স্কুল শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মৃত্যু নওগাঁয় খাবারের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আহত ৪, লুট ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহনের ভাড়া সুনামগঞ্জের বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু নেত্রকোনায় স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক নগরীর আইডিয়াল মোড় সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত খুলনায় নিজ রাইফেলের গুলিতে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা বৈশাখের ঝড় ও বজ্রপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বাধা দিলেন ইউপি সদস্য রহিম উল্লাহ আমজাদহাটে জনমনে স্বস্তি

মনোহরদীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ নারী জন্ম দিল সন্তান, কারাগারে প্রতিবেশি বৃদ্ধ

মো.এমরুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি,নরসিংদীঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

মনোহরদীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ নারী জন্ম দিল সন্তান, কারাগারে প্রতিবেশি বৃদ্ধ

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মো.এমরুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি,নরসিংদীঃ

নরসিংদীর মনোহরদীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ নারী জন্ম সন্তান দেয়ার ঘটনায় তার প্রতিবেশী দাদাকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার।

অভিযুক্ত রহমান মিয়া (৫৮) মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের নারান্দী গ্রামের মৃত আছমত আলীর ছেলে। পেশায় তিনি স্থানীয় বাজারে ভাঙ্গারী মালের ব্যবসায়ী। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে।

বুধবার রাতে ভুক্তভোগীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে মনোহরদী থানা পুলিশ।
জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা একজন ভিক্ষুক এবং বাবা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী নারীর (১৮) বিয়ে হয় চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দেওনা এলাকার রাকিবুল হাসানের সঙ্গে। বিয়ের মাত্র এক মাস পরই শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানতে পারেন মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হয় তারা । অভিযোগে আরও বলা হয়, সাত মাস আগে এক দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশি সম্পর্কে দাদা আব্দুর রহমান জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি গোপন রাখতে নানা ভয়ভীতিও দেখান তিনি।

বিয়ের পর ঘটনাটি প্রকাশ পেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়েটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের আয়োজন করা হলেও অভিযুক্ত রহমান মিয়া দায় স্বীকার করেননি এবং মেয়েটিকে বিয়েতে সম্মত হননি। এদিকে, গত ১৬ জুন ভুক্তভোগী নারী এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয় যে,গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় কিন্তু সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন,“মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের ডিএনএ টেস্ট করা হবে। জন্ম নেয়া শিশুটির পিতৃ পরিচয় ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে প্রমাণ মিলবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রহমান মিয়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

মনোহরদীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ নারী জন্ম দিল সন্তান, কারাগারে প্রতিবেশি বৃদ্ধ

আপডেট সময় : ১১:৫০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
print news

মো.এমরুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি,নরসিংদীঃ

নরসিংদীর মনোহরদীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ নারী জন্ম সন্তান দেয়ার ঘটনায় তার প্রতিবেশী দাদাকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার।

অভিযুক্ত রহমান মিয়া (৫৮) মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের নারান্দী গ্রামের মৃত আছমত আলীর ছেলে। পেশায় তিনি স্থানীয় বাজারে ভাঙ্গারী মালের ব্যবসায়ী। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে।

বুধবার রাতে ভুক্তভোগীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে মনোহরদী থানা পুলিশ।
জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা একজন ভিক্ষুক এবং বাবা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী নারীর (১৮) বিয়ে হয় চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দেওনা এলাকার রাকিবুল হাসানের সঙ্গে। বিয়ের মাত্র এক মাস পরই শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানতে পারেন মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হয় তারা । অভিযোগে আরও বলা হয়, সাত মাস আগে এক দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশি সম্পর্কে দাদা আব্দুর রহমান জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি গোপন রাখতে নানা ভয়ভীতিও দেখান তিনি।

বিয়ের পর ঘটনাটি প্রকাশ পেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়েটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের আয়োজন করা হলেও অভিযুক্ত রহমান মিয়া দায় স্বীকার করেননি এবং মেয়েটিকে বিয়েতে সম্মত হননি। এদিকে, গত ১৬ জুন ভুক্তভোগী নারী এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয় যে,গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় কিন্তু সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন,“মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের ডিএনএ টেস্ট করা হবে। জন্ম নেয়া শিশুটির পিতৃ পরিচয় ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে প্রমাণ মিলবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রহমান মিয়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।