ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের

বগুড়া শেরপুরে অধ্যক্ষ নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫ ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া শেরপুরে অধ্যক্ষ নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়া শেরপুরে টাউনক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা অনার্স কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে অর্ধ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ মে) কলেজের গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য পিয়ার হোসেন পিয়ার ও দাতা সদস্য জাহিদুর রহমান টুলু অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১০ মার্চ গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অধ্যক্ষ পদের জন্য ১৩ জন আবেদন করলেও ৩ মে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ জন। লিখিত পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদের যমুনা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন, কাজীপুরের আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান, বগুড়ার ধুনট মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম ও বগুড়া আর্মড ব্যাটালিয়ন কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণ এই ৪ জনের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করেছে নিয়োগ নির্বাচনি কমিটি। তাদের মধ্যে মো. জাকির হোসেনকে প্রথম ঘোষণা করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

তবে নিয়োগ পরীক্ষার দিনই শুরু হয় নানান অনিয়মের গুঞ্জন। নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য সংবাদকর্মীরা কলেজের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর জানানো হয় পরীক্ষা শেষে তাদের সব তথ্য সরবরাহ করা হবে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান যৌথভাবে এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছেন। এই কমিটির মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে তার কর্মস্থল যমুনা কলেজে। তিনি তার বর্তমান কলেজের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎসহ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার চেষ্টা করেছেন। যা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য পিয়ার হোসেন পিয়ার ও জাহিদুর রহমান টুলু বলেন, কলেজটি এলাকায় নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এখানে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম হলে কলেজটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই আমরা বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানাই।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। ৫ সদস্যবিশিষ্ট নিয়োগ বোর্ড স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো দায় নেই।

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ বলেন, পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষানবিশ) ও নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ফয়সাল মাহমুদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

বগুড়া শেরপুরে অধ্যক্ষ নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

বগুড়া শেরপুরে টাউনক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা অনার্স কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে অর্ধ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ মে) কলেজের গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য পিয়ার হোসেন পিয়ার ও দাতা সদস্য জাহিদুর রহমান টুলু অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১০ মার্চ গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অধ্যক্ষ পদের জন্য ১৩ জন আবেদন করলেও ৩ মে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ জন। লিখিত পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদের যমুনা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন, কাজীপুরের আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান, বগুড়ার ধুনট মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম ও বগুড়া আর্মড ব্যাটালিয়ন কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণ এই ৪ জনের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করেছে নিয়োগ নির্বাচনি কমিটি। তাদের মধ্যে মো. জাকির হোসেনকে প্রথম ঘোষণা করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

তবে নিয়োগ পরীক্ষার দিনই শুরু হয় নানান অনিয়মের গুঞ্জন। নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য সংবাদকর্মীরা কলেজের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর জানানো হয় পরীক্ষা শেষে তাদের সব তথ্য সরবরাহ করা হবে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান যৌথভাবে এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছেন। এই কমিটির মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে তার কর্মস্থল যমুনা কলেজে। তিনি তার বর্তমান কলেজের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎসহ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার চেষ্টা করেছেন। যা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য পিয়ার হোসেন পিয়ার ও জাহিদুর রহমান টুলু বলেন, কলেজটি এলাকায় নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এখানে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম হলে কলেজটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই আমরা বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানাই।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। ৫ সদস্যবিশিষ্ট নিয়োগ বোর্ড স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো দায় নেই।

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ বলেন, পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষানবিশ) ও নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ফয়সাল মাহমুদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।