ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিংড়ায় প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে প্রতারণায় গ্রেপ্তার ১ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-নিরাপত্তারক্ষী সংঘর্ষ আলিয়া বা দীপিকার মতো তারকা নই যে ভালো ব্যবসা হবে: রাধিকা আপ্তে জাপান সফরে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে না রাখার সিদ্ধান্ত পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি: বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি ও সতর্কতা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আইজিপির মন্তব্য: বল প্রয়োগে সমালোচনা, না করলে দুর্বল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নেই, ক্ষুব্ধ ডাকসু ভিপি জাহাজভাঙা শিল্পকে লাল থেকে কমলা শ্রেণিতে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত জার্মানির ঐতিহাসিক ‘ঈগলস নেস্টে’ অগ্নিকাণ্ড, আটক এক সন্দেহভাজন

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি: বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি ও সতর্কতা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি, যা মূলত ওয়েবসাইট হোস্ট করা সার্ভারে ব্যবহৃত হয়, সেখানে সম্প্রতি মারাত্মক দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ এবং উইজের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় এই ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করেন। যদিও পিএইচপি কর্তৃপক্ষ ত্রুটিগুলোর সমাধান করে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেছে, তবুও হ্যাকাররা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালাচ্ছে।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক লেকচারার অ্যান্ড্রিউ কুলেন জানান, বিশ্বের অসংখ্য যন্ত্র একটি মৌলিক সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে এই বাগটি পাওয়া গেছে। এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা ওয়েবসাইটে নিজের কোড চালাতে পারেন, ওয়েবসাইট পরিবর্তন করতে পারেন কিংবা তথ্যভান্ডারে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য করতে পারেন। ক্লাউড সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান উইজ জানিয়েছে, সমস্যাটি পিএইচপির ভেতরেই রয়েছে এবং এটি পিএইচপির যেকোনো সংস্করণে চলা সাধারণ ওয়েবসাইটকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ত্রুটিগুলো পিএইচপি কোডবেজে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে ছিল।

পিএইচপি২শেল নামে অভিহিত এই ত্রুটিগুলোর তীব্রতা মূল্যায়ন স্কেলে ১০-এর মধ্যে ৯.২ দেওয়া হয়েছে। পিএইচপি ৫.৪ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন সংস্করণে এই ত্রুটি কার্যকর ছিল। এর মাধ্যমে আক্রমণকারী কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড বা বৈধ অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস ছাড়াই দূরবর্তী অবস্থান থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল ও জুমলার মতো প্ল্যাটফর্মগুলো অন্তর্ভুক্ত।

আমাজনের নিরাপত্তাপ্রধান সিজে মোসেস জানিয়েছেন, ত্রুটিগুলো প্রকাশ্যে আসার চার দিন আগেই তাদের নিরাপত্তাদল এ সংক্রান্ত হামলার চেষ্টা শনাক্ত করেছিল। ক্যালিফ এবং উইজের প্রতিবেদনগুলো যখন অপ্রকাশিত ছিল, তখন হ্যাকাররা কীভাবে এই ত্রুটি সম্পর্কে জানতে পারলেন, তা স্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সুমিত সাহার মতে, পিএইচপি নিজে অত্যন্ত আধুনিক ও নিরাপদ হলেও পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার বা সার্ভার-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওয়েবসাইটগুলো হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে পড়ে। বাংলাদেশের অনেক ওয়েবসাইট সময়মতো হালনাগাদ কোড বা প্যাচ প্রয়োগ না করায় ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সংকট থেকে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায় হলো অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ও কোড হালনাগাদ করা। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত পিএইচপি ৮.২.৩৫, ৮.৩.৩৬, ৮.৪.২৭ ও ৮.৫.১২ সংস্করণে এই ত্রুটিগুলোর সমাধান করা হয়েছে।

এই সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নজিরবিহীন সতর্কতা জারি করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পিএইচপি ফাউন্ডেশন ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাসহ বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপর্যয় এড়াতে ওয়েবসাইট প্রশাসকদের অবিলম্বে নিরাপত্তা প্যাচ বা ফিক্স ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি: বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি ও সতর্কতা

আপডেট সময় : ০৪:১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি, যা মূলত ওয়েবসাইট হোস্ট করা সার্ভারে ব্যবহৃত হয়, সেখানে সম্প্রতি মারাত্মক দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ এবং উইজের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় এই ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করেন। যদিও পিএইচপি কর্তৃপক্ষ ত্রুটিগুলোর সমাধান করে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেছে, তবুও হ্যাকাররা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালাচ্ছে।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক লেকচারার অ্যান্ড্রিউ কুলেন জানান, বিশ্বের অসংখ্য যন্ত্র একটি মৌলিক সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে এই বাগটি পাওয়া গেছে। এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা ওয়েবসাইটে নিজের কোড চালাতে পারেন, ওয়েবসাইট পরিবর্তন করতে পারেন কিংবা তথ্যভান্ডারে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য করতে পারেন। ক্লাউড সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান উইজ জানিয়েছে, সমস্যাটি পিএইচপির ভেতরেই রয়েছে এবং এটি পিএইচপির যেকোনো সংস্করণে চলা সাধারণ ওয়েবসাইটকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ত্রুটিগুলো পিএইচপি কোডবেজে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে ছিল।

পিএইচপি২শেল নামে অভিহিত এই ত্রুটিগুলোর তীব্রতা মূল্যায়ন স্কেলে ১০-এর মধ্যে ৯.২ দেওয়া হয়েছে। পিএইচপি ৫.৪ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন সংস্করণে এই ত্রুটি কার্যকর ছিল। এর মাধ্যমে আক্রমণকারী কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড বা বৈধ অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস ছাড়াই দূরবর্তী অবস্থান থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল ও জুমলার মতো প্ল্যাটফর্মগুলো অন্তর্ভুক্ত।

আমাজনের নিরাপত্তাপ্রধান সিজে মোসেস জানিয়েছেন, ত্রুটিগুলো প্রকাশ্যে আসার চার দিন আগেই তাদের নিরাপত্তাদল এ সংক্রান্ত হামলার চেষ্টা শনাক্ত করেছিল। ক্যালিফ এবং উইজের প্রতিবেদনগুলো যখন অপ্রকাশিত ছিল, তখন হ্যাকাররা কীভাবে এই ত্রুটি সম্পর্কে জানতে পারলেন, তা স্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সুমিত সাহার মতে, পিএইচপি নিজে অত্যন্ত আধুনিক ও নিরাপদ হলেও পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার বা সার্ভার-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওয়েবসাইটগুলো হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে পড়ে। বাংলাদেশের অনেক ওয়েবসাইট সময়মতো হালনাগাদ কোড বা প্যাচ প্রয়োগ না করায় ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সংকট থেকে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায় হলো অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ও কোড হালনাগাদ করা। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত পিএইচপি ৮.২.৩৫, ৮.৩.৩৬, ৮.৪.২৭ ও ৮.৫.১২ সংস্করণে এই ত্রুটিগুলোর সমাধান করা হয়েছে।

এই সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নজিরবিহীন সতর্কতা জারি করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পিএইচপি ফাউন্ডেশন ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাসহ বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপর্যয় এড়াতে ওয়েবসাইট প্রশাসকদের অবিলম্বে নিরাপত্তা প্যাচ বা ফিক্স ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo