ঢাকা ০২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিদান-যুগের শুরুতে এমবাপ্পের গোলে তুরস্ককে হারাল ফ্রান্স

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফরাসি ফুটবলে শুরু হলো জিনেদিন জিদান-যুগ। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ফ্রান্স দলের ডাগআউট সামলানো দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের পর আজ প্রথমবার কোচের চেয়ারে বসেন জিদান। নতুন কোচের অধীনে প্রথম ম্যাচেই তুরস্কের মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসিরা। আর এই নতুন শুরুর নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হলেন দলের চেনা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর করা একমাত্র গোলেই তুরস্কের বিপক্ষে কষ্টের জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করল জিদানের ফ্রান্স।

ম্যাচের শুরুতে জিদানের ৪-৩-৩ ফরমেশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফরাসি ফুটবলারদের। বিশেষ করে দীর্ঘ দুই বছর জাতীয় দলের হয়ে বাঁ প্রান্তে না খেলা অধিনায়ক এমবাপ্পের ওপর এর প্রভাব স্পষ্ট ছিল। শুরু থেকেই তুরস্কের দুজন ডিফেন্ডার তাঁকে কড়া পাহারায় রাখেন। আক্রমণভাগের অন্য দুই তারকা উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেও নিজেদের চেনা ছন্দে ছিলেন না। দেম্বেলে যেখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, ওলিসে সেখানে ছিলেন পুরোপুরি নিষ্প্রভ।

অন্যদিকে, ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফরাসি রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দেয় তুরস্ক। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ইলমাজের একটি বিপজ্জনক শট রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। এরপর ফিরতি বল গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডাররা। ২৮ মিনিটে কাদিয়োগ্লুর আরেকটি জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন সেই মাইনিয়ঁ। তুর্কিদের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে ফরাসিদের।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলায় ফেরে ফ্রান্স। ফাইনাল থার্ডে এমবাপ্পে নিজের প্রভাব বাড়াতে শুরু করেন এবং মাঝমাঠে রায়ান শেরকি কিছু দারুণ ঝলক দেখান। যদিও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় প্রথমার্ধে কোনো গোল আসেনি। বিরতির ঠিক আগে ওলিসের একটি চমৎকার শট রুখে দেন তুর্কি গোলরক্ষক চাকির। বিরতির পর তুরস্ক আবারও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তটি আসে তখনই। জুলস কুন্দে ও শেরকির সম্মিলিত প্রেসিংয়ের মুখে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান ওলিসে। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বাঁ প্রান্তে থাকা এমবাপ্পের দিকে। নিখুঁত এক শটে বল জালে জড়িয়ে ফরাসি জার্সিতে নিজের ৬৭তম গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক।

কিন্তু গোলের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই যন্ত্রণায় মাঠে বসে পড়েন এমবাপ্পে। চোটের কারণে ৫৯ মিনিটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তরুণ দেজিরে দুয়ে। মাঠে নামার তিন মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের পোস্টে আক্রমণ চালিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন এই তরুণ। ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যে ফ্রান্স আক্রমণ অব্যাহত রাখে। ৬৯ মিনিটে ডিফেন্ডার কুন্দের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল থেকে বঞ্চিত হন তিনি। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলা মাঠে নামলে ফরাসি আক্রমণের গতি আরও বেড়ে যায়।

ম্যাচের শেষভাগে ৮৮ মিনিটে নাটকীয়তা ছড়ায়। বারকোলা একা বল নিয়ে তুর্কি রক্ষণভাগ ভেদ করে এগিয়ে যাওয়ার সময় ডি-বক্সের বাইরে হাত দিয়ে বল আটকে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তুরস্কের গোলরক্ষক চাকির। তবে ম্যাচের বাকি সময়ে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলের ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি ফরাসিরা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জিদানের শিষ্যরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জিদান-যুগের শুরুতে এমবাপ্পের গোলে তুরস্ককে হারাল ফ্রান্স

আপডেট সময় : ০৫:০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরাসি ফুটবলে শুরু হলো জিনেদিন জিদান-যুগ। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ফ্রান্স দলের ডাগআউট সামলানো দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের পর আজ প্রথমবার কোচের চেয়ারে বসেন জিদান। নতুন কোচের অধীনে প্রথম ম্যাচেই তুরস্কের মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসিরা। আর এই নতুন শুরুর নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হলেন দলের চেনা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর করা একমাত্র গোলেই তুরস্কের বিপক্ষে কষ্টের জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করল জিদানের ফ্রান্স।

ম্যাচের শুরুতে জিদানের ৪-৩-৩ ফরমেশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফরাসি ফুটবলারদের। বিশেষ করে দীর্ঘ দুই বছর জাতীয় দলের হয়ে বাঁ প্রান্তে না খেলা অধিনায়ক এমবাপ্পের ওপর এর প্রভাব স্পষ্ট ছিল। শুরু থেকেই তুরস্কের দুজন ডিফেন্ডার তাঁকে কড়া পাহারায় রাখেন। আক্রমণভাগের অন্য দুই তারকা উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেও নিজেদের চেনা ছন্দে ছিলেন না। দেম্বেলে যেখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, ওলিসে সেখানে ছিলেন পুরোপুরি নিষ্প্রভ।

অন্যদিকে, ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফরাসি রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দেয় তুরস্ক। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ইলমাজের একটি বিপজ্জনক শট রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। এরপর ফিরতি বল গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডাররা। ২৮ মিনিটে কাদিয়োগ্লুর আরেকটি জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন সেই মাইনিয়ঁ। তুর্কিদের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে ফরাসিদের।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলায় ফেরে ফ্রান্স। ফাইনাল থার্ডে এমবাপ্পে নিজের প্রভাব বাড়াতে শুরু করেন এবং মাঝমাঠে রায়ান শেরকি কিছু দারুণ ঝলক দেখান। যদিও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় প্রথমার্ধে কোনো গোল আসেনি। বিরতির ঠিক আগে ওলিসের একটি চমৎকার শট রুখে দেন তুর্কি গোলরক্ষক চাকির। বিরতির পর তুরস্ক আবারও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তটি আসে তখনই। জুলস কুন্দে ও শেরকির সম্মিলিত প্রেসিংয়ের মুখে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান ওলিসে। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বাঁ প্রান্তে থাকা এমবাপ্পের দিকে। নিখুঁত এক শটে বল জালে জড়িয়ে ফরাসি জার্সিতে নিজের ৬৭তম গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক।

কিন্তু গোলের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই যন্ত্রণায় মাঠে বসে পড়েন এমবাপ্পে। চোটের কারণে ৫৯ মিনিটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তরুণ দেজিরে দুয়ে। মাঠে নামার তিন মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের পোস্টে আক্রমণ চালিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন এই তরুণ। ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যে ফ্রান্স আক্রমণ অব্যাহত রাখে। ৬৯ মিনিটে ডিফেন্ডার কুন্দের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল থেকে বঞ্চিত হন তিনি। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলা মাঠে নামলে ফরাসি আক্রমণের গতি আরও বেড়ে যায়।

ম্যাচের শেষভাগে ৮৮ মিনিটে নাটকীয়তা ছড়ায়। বারকোলা একা বল নিয়ে তুর্কি রক্ষণভাগ ভেদ করে এগিয়ে যাওয়ার সময় ডি-বক্সের বাইরে হাত দিয়ে বল আটকে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তুরস্কের গোলরক্ষক চাকির। তবে ম্যাচের বাকি সময়ে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলের ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি ফরাসিরা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জিদানের শিষ্যরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo