‘স্বৈরাচার’ মিম নিয়ে মুখ খুললেন ফরাসি তারকা এমবাপ্পে
- আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে তৈরি নানা ধরনের হাস্যরসাত্মক ছবি ও ভিডিও ঘুরে বেড়ায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এসব ছবিতে তাঁকে কখনো সামরিক পোশাকে, মাথায় টুপি পরা অবস্থায় কিংবা রাজসিংহাসনে বসা এক ‘স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে দেখানো হয়। নেটিজেনরা তাঁর নাম দিয়েছেন ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’। এবার এই ব্যঙ্গাত্মক মিম নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ এমবাপ্পে নিজেই।
ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে জানান, বিষয়টি একদিক থেকে তাঁর কাছে বেশ মজার। কারণ তিনি বোঝেন যে অনেকেই নিছক বিনোদন ও হাসি-ঠাট্টার জন্য এটি করেন। তবে ইতিহাসের কুখ্যাত ও ভয়াবহ স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তাঁর এই তুলনা করাটা তাঁকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে। এ বিষয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘যারা মানুষ হত্যা করেছে, লাখো-কোটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আমি তো জীবনে এমন কিছু করিনি।’ তাঁর মতে, স্বৈরাচার এমবাপ্পের মিমটি কখনো কখনো মজার হলেও এর মধ্যে মানুষের রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনতার ঘাটতিও প্রকাশ পায়।
এমবাপ্পেকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে উপস্থাপনের শুরুটা কবে থেকে হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন হলেও ২০২৪ সালের একটি ঘটনা এই প্রবণতাকে উসকে দিয়েছিল। সে বছর ফরাসি ইনফ্লুয়েন্সার ও কাবাবের দোকানের মালিক মোহাম্মদ হেন্নির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। কারণ, হেন্নি তাঁর দোকানের একটি স্যান্ডউইচের বর্ণনায় এমবাপ্পের নাম ব্যবহার করেছিলেন। এমবাপ্পের আইনজীবীরা সেই নাম সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই এমবাপ্পেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া এক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা জোরালো হয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফুটবলে এমবাপ্পের কথিত ক্ষমতার আলোচনা। ২০২২ সালে পিএসজির সঙ্গে নতুন চুক্তি করার পর গণমাধ্যমে খবর রটেছিল যে, ক্লাবের খেলোয়াড় কেনাবেচা, কোচ ও ক্রীড়া পরিচালক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমবাপ্পের প্রভাব থাকবে। যদিও সে সময় এমবাপ্পে পরিষ্কার করে বলেছিলেন, তিনি একজন ফুটবলারের ভূমিকার বাইরে যাবেন না। রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর যোগদানের পর এবং ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এআই নির্মিত ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিমগুলো আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মাঠে তাঁর নেতৃত্ব বা সতীর্থদের সঙ্গে সাধারণ আলাপকেও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সব সিদ্ধান্ত তাঁর নির্দেশেই হচ্ছে।
তবে সতীর্থ উসমান দেম্বেলের দেওয়া ‘মোবুতু’ ডাকটিকে ভিন্নভাবে দেখেন এমবাপ্পে। সাবেক জায়ারের স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে দেম্বেলে তাঁকে এই নামে ডাকেন। এ নিয়ে এমবাপ্পের কোনো আপত্তি নেই। দেম্বেলেকে নিয়ে হেসে এমবাপ্পে বলেন, ‘ও আলাদা কিছু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেয়েছে! ও তো শুধু মজা করছে।’





























