বরখাস্ত কোচ জেরার্ড জোনসের ‘মৃত্যুর হুমকি’র দাবি উড়িয়ে দিল বাফুফে
- আপডেট সময় : ০৮:৩০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৩০ (09 September 2026, 07:30)
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মৃত্যুর হুমকি’ পাওয়ার যে দাবি ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোনস করেছেন, তাকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ফেডারেশনের দাবি, নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও চরম অপেশাদারিত্বের দায় এড়াতেই এখন এমন কাল্পনিক গল্প ফাঁদছেন এই ব্রিটিশ কোচ। বাফুফে জানিয়েছে, তাদের কাছে সিসিক্যামেরার ফুটেজসহ পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, যা জোনসের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
গত জুনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই বছরের চুক্তিতে জেরার্ড জোনসকে অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব দিয়েছিল বাফুফে। তবে একের পর এক শৃঙ্খলাভঙ্গ, অপেশাদার আচরণ এবং দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে মাত্র দুই মাস পরই তাকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয় দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে জোনস দাবি করেন, বাংলাদেশে তাকে নাকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বাফুফে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে প্রশ্ন তুলেছে, সত্যিই যদি এমন কিছু ঘটে থাকত, তবে এই কোচ আইনের আশ্রয় না নিয়ে কেন ফেসবুকে পোস্ট দিলেন!
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত ঘটনা ঘটিয়েছেন জেরার্ড জোনস। গত ১০ আগস্ট হঠাৎ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি দাবি করেন, বাফুফে তাকে বেতন দিচ্ছে না এবং তার পরিবার সংকটে রয়েছে। অথচ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তার পাওনা পরিশোধের স্বাভাবিক নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলছিল। কোনো আলোচনা ছাড়াই ফেসবুকে এমন পোস্ট দিয়ে তিনি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া ইউসিবি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় গিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে টাকা তুলতে না পেরে ম্যানেজারের দিকে তেড়ে যাওয়ার মতো উগ্র আচরণও করেন তিনি। সামান্য জটিলতাতেই হোটেলে পুলিশ ডেকে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন এই কোচ।
মাঠের বাইরে জোনসের সবচেয়ে বড় বিতর্কটি ঘটে গত ১৯ আগস্ট। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে খেলতে যাওয়ার ঠিক আগে টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশ ডাকেন জোনস। এই ঘটনার পর দলের পরিবেশ ও প্রস্তুতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কোচ, সহকারী কোচ কিংবা কোনো খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন না; সেখানে দলের প্রতিনিধি হিসেবে কেবল টিম ম্যানেজার সামিদ কাশেম কথা বলেন।
মাঠের পারফরম্যান্সেও এর চরম প্রভাব পড়ে। কিছুদিন আগেই সাফ চ্যাম্প্শনশিপের শিরোপা জেতা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি। গত ৩১ আগস্ট স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ এবং ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে বাছাই পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ। সহকারী কোচকে দলের সাথে কাজ করতে না দিয়ে এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগও ছিল জোনসের বিরুদ্ধে। এই ভরাডুবির পর ভারত ম্যাচের আগেই বাফুফে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জোনসকে অব্যাহতি দিয়ে চুক্তি বাতিল করে। টুর্নামেন্টের বাকি সময়ে ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু।
এদিকে নিজের ফেসবুক বিবৃতিতে সাইবার আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে জোনস বলেন, ফুটবলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করা যৌক্তিক হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, তথ্য ফাঁস ও মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও দাবি করেন, তার প্রায় দুই দশকের কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্জন মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তবে বাফুফে তার এই আত্মপক্ষ সমর্থনকে প্রত্যাখ্যান করে একে কেবলই নিজের অপেশাদারি আচরণের দায় এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে।





























