‘মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি’, বরখাস্তের পর বিস্ফোরক দাবি অনূর্ধ্ব-২০ কোচের
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থতার জেরে চাকরি হারানোর চার দিন পর বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাবেক প্রধান কোচ জেরার্ড জোনস। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময় ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে এবং তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
বাছাইপর্বে টানা দুই ম্যাচ হেরে মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর জেরার্ড জোনসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এর আগে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ দল। বরখাস্তের কারণ হিসেবে বাফুফের বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি; কেবল জানানো হয়েছিল, তাঁকে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তবে বাফুফের একটি সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে জোনসের এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। কথা-কাটাকাটির জেরে ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ালে জোনস নিজে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডেকেছিলেন। এই ঘটনার পাশাপাশি মাঠের বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই মূলত তাঁকে বিদায় করা হয়।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে জোনস লিখেছেন, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কিছু অত্যন্ত বাজে বার্তা পেয়েছি, আমার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছি। আমি একজন স্বামী, একজন বাবা এবং একজন সন্তান।’ প্রায় দুই দশকের কোচিং ক্যারিয়ারের অধিকারী এই কোচ কেবল দুটি ম্যাচের ফলাফল দিয়ে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বিচার করতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘এই সময়ের কাজ ও অর্জন দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলে মুছে যাওয়ার নয়।’
বাংলাদেশে মাত্র ৯ সপ্তাহ কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন জোনস। তাঁর মতে, প্রস্তুতির দিক থেকে বাংলাদেশ দল এমন সব প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল, যাদের ফুটবলার তৈরির দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো অনেক বেশি শক্তিশালী। বাংলাদেশে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে জোনস বলেন, ‘আমি শুধু জাতীয় দলের ফলাফল নিয়ে কাজ করতে যাইনি। যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার মতো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ছিল খুব কম।’
অনুশীলনে দলের উন্নতি সম্পর্কে জোনস দাবি করেন, বল দখল, আক্রমণে বৈচিত্র্য, বক্সে প্রবেশ, হাই প্রেসিং ও কাউন্টার প্রেসিংয়ে দল ভালো করছিল। তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সেই ফর্ম ধরে রাখা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘অনুশীলনে আমরা যে ফুটবল তৈরি করেছিলাম, মাঠে সেটি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারিনি। দলটি আমাদের প্রস্তুতির সময় যে নীতিগুলো তৈরি করেছিল, তার তুলনায় অনেকটাই অচেনা হয়ে গিয়েছিল।’ এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত লড়াই করতে হলে বাংলাদেশের খেলোয়াড় বাছাই, অবকাঠামো, ফুটবল সংস্কৃতি ও উচ্চপর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তবে দেশের ফুটবল নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে জোনস বলেন, বাংলাদেশে প্রতিভা ও ফুটবল নিয়ে মানুষের আবেগ রয়েছে, কিন্তু এর সঠিক ব্যবহারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।





























