শরীফুলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৩:০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল বাংলাদেশ দল। চোটের কারণে ডারউইনে প্রথম টেস্ট মিস করা বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম ফিরে এসেই বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার ১৬৫ রান করতে হারানো ৮ উইকেটের মধ্যে একাই ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। দিনের শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর শরীফুলের এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে ম্যাচে নতুন করে বাঁচিয়ে রেখেছে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ দল চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল। লাঞ্চের পর মাত্র ১১ ওভার ব্যাটিং করে পুরো দল ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেট বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েন। স্টার্ক মাত্র ৩.৪ ওভার বল করে ১২ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট তুলে নেন। একপর্যায়ে ৩৯ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন রানের লজ্জার মুখে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের সঙ্গে শরীফুল ইসলামের শেষ উইকেটে ২৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশ ৬৪ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
বিপরীত চিত্র দেখা গেছে দিনের শেষ সেশনে। বল হাতে শরীফুল ইসলাম অস্ট্রেলিয়ার টপ ও মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদ ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন। এরপর শরীফুল অষ্টম ওভারে ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেনকে বোল্ড করে জোড়া আঘাত হানেন। হেড ২৭ বলে ২২ রান করে আউট হওয়ার সময় নিজের ওপরই ক্ষুব্ধ ছিলেন। এরপর স্টিভেন স্মিথ ও বো ওয়েবস্টারকে এলবিডব্লু করে নিজের দাপট অব্যাহত রাখেন শরীফুল। মাঝে মেহেদী হাসান মিরাজ অ্যালেক্স ক্যারির উইকেটটি তুলে নেন।
দিনের শেষ দিকে প্যাট কামিন্সকে আউট করে শরীফুল টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পূর্ণ করেন এবং পরের ওভারেই স্টার্ককে বোল্ড করে নিজের শিকার সংখ্যা ৬-এ উন্নীত করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ক্যামেরন গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত থেকে একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা গ্রিন আজকেও দলের ত্রাতা হয়ে আছেন। দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করেছে। জশ হ্যাজলউড ফক্স স্পোর্টসকে জানান, উইকেটে বাউন্স ও সিম মুভমেন্টে কিছুটা অসামঞ্জস্য ছিল, যা বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য আজকের দিনটি ছিল এক চরম অনিশ্চয়তা থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন।





























