ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

আফগান সিরিজে বিক্ষোভের শঙ্কা, নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এই সিরিজ আয়োজনের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচগুলো চলাকালে প্রতিবাদের আশঙ্কায় ভেন্যু ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইরিশ ক্রিকেট বোর্ড।

পাঁচ ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের police সার্ভিসের (পিএসএনআই) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান সরকার নারীদের খেলাধুলার ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এমনকি নারী ক্রীড়াবিদদের বাড়িতে অভিযান চালানোর মতো অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তার কারণে অনেক নারী ক্রিকেটার ইতোমধ্যে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এই মানবাধিকার সংকটের কারণে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা থেকে বিরত রয়েছে, যদিও আইসিসির বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তারা মুখোমুখি হয়।

চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ কিয়েন নিজেই এই সিরিজ আয়োজন নিয়ে তাদের 'নৈতিক অস্বস্তি'র কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে শরণার্থী আফগান নারী ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গঠিত আইসিসির একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন।

সিরিজ চলাকালে সম্ভাব্য বিক্ষোভের বিষয়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকবে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশ করা মানুষের মৌলিক অধিকার, তবে তা যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে বা কোনো অপরাধের জন্ম না দেয়। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র ফেলিক্স জ্যাকাঙ্কস শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানাতে পুলিশ ও আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড, তাদের খেলোয়াড় এবং আইসিসিকে আফগান নারীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেন। ফেলিক্স সতর্ক করে বলেন, অনেক সরকারই নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে খেলাধুলাকে ব্যবহার করে এবং তালেবানও এই সিরিজটিকে তাদের প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

আফগান সিরিজে বিক্ষোভের শঙ্কা, নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এই সিরিজ আয়োজনের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচগুলো চলাকালে প্রতিবাদের আশঙ্কায় ভেন্যু ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইরিশ ক্রিকেট বোর্ড।

পাঁচ ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের police সার্ভিসের (পিএসএনআই) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান সরকার নারীদের খেলাধুলার ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এমনকি নারী ক্রীড়াবিদদের বাড়িতে অভিযান চালানোর মতো অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তার কারণে অনেক নারী ক্রিকেটার ইতোমধ্যে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এই মানবাধিকার সংকটের কারণে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা থেকে বিরত রয়েছে, যদিও আইসিসির বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তারা মুখোমুখি হয়।

চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ কিয়েন নিজেই এই সিরিজ আয়োজন নিয়ে তাদের 'নৈতিক অস্বস্তি'র কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে শরণার্থী আফগান নারী ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গঠিত আইসিসির একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন।

সিরিজ চলাকালে সম্ভাব্য বিক্ষোভের বিষয়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকবে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশ করা মানুষের মৌলিক অধিকার, তবে তা যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে বা কোনো অপরাধের জন্ম না দেয়। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র ফেলিক্স জ্যাকাঙ্কস শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানাতে পুলিশ ও আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড, তাদের খেলোয়াড় এবং আইসিসিকে আফগান নারীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেন। ফেলিক্স সতর্ক করে বলেন, অনেক সরকারই নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে খেলাধুলাকে ব্যবহার করে এবং তালেবানও এই সিরিজটিকে তাদের প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh