ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফটোগ্রাফারের আপত্তিকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী জারিন খান সাগরে নতুন লঘুচাপ, আজ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ার পূর্বাভাস আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী ফুটবলের ইতিহাস বদলে দেওয়া লিওনেল মেসির নতুন রূপ যৌতুকের দাবিতে বিয়ে ভাঙার ঘটনায় কনের বাবার লিখিত অভিযোগ লালমাইয়ে জমি নিয়ে বিরোধে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ডাক্তার ও ডেন্টিস্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছা শেখ হাসিনার, ভারতের অবস্থানে নেই কোনো পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন

ফুটবলের ইতিহাস বদলে দেওয়া লিওনেল মেসির নতুন রূপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

আর্জেন্টিনা যদি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে এই গৌরব অর্জন করে, তবে সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। এটি পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড। এবারের আসরে তিনি ইতিমধ্যে আটটি গোল করেছেন এবং দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে শীর্ষে থাকলেও, দর্শকদের চোখে এবারের মেসি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৩ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হওয়া সেই তরুণ উইঙ্গারের সঙ্গে বর্তমান মেসির পার্থক্য অনেক। এমবাপ্পের সামনে আর একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও গোল্ডেন বুটের ফয়সালা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা, যেখানে সব নজর থাকবে মেসির ওপর।

সাধারণত ফুটবলারদের পারফরম্যান্স বয়সের সঙ্গে হ্রাস পায়, কিন্তু কিংবদন্তিরা নিজেদের নতুনভাবে তৈরি করতে জানেন। যেমনটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গতি কমে যাওয়ার পর বক্সের ভেতরের গোলশিকারিতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। মেসিও নিজেকে বদলেছেন, তবে অবনতি সামাল দিতে নয়, বরং খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে। এই বিশ্বকাপে তিনি আগের চেয়ে কম দৌড়ালেও সুযোগ সৃষ্টি করছেন অনেক বেশি। তার ৩৩টি শট ও ২১টি গোলের সুযোগ তৈরির রেকর্ড মিলিয়ে মোট ৫৪টি আক্রমণাত্মক অবদান রয়েছে, যা ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর সর্বোচ্চ। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার অতিক্রান্ত দূরত্বের ৪৭ শতাংশই তিনি হেঁটে অতিক্রম করেছেন, যা এই টুর্নামেন্টে যেকোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৯০ মিনিটে তিনি গড়ে মাত্র ৮.২ কিলোমিটার দৌড়েছেন, যা আর্জেন্টিনার অন্তত ২০ মিনিট খেলা সব আউটফিল্ড ফুটবলারের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া প্রতি ম্যাচে তার গড় স্প্রিন্ট মাত্র ২.৭টি, যা চার বছর আগের ৫.৩ থেকে অনেক কম। গত ১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচে কেবল পোল্যান্ডই তাকে গোল বা অ্যাসিস্ট থেকে বিরত রাখতে পেরেছে, যেখানে এই ১৫ ম্যাচে তার অবদান ১৬ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট।

২০০৩ সালে ১৬ বছর বয়সে হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে প্রীতি ম্যাচে অভিষেকের সময় মেসি ছিলেন একজন ডান প্রান্তের উইঙ্গার, যিনি ড্রিবলিং ও ভেতরের দিকে কেটে আক্রমণ গড়ায় দক্ষ ছিলেন। এরপর থেকে অন্তত পাঁচবার তিনি নিজের খেলার ধরন বদলেছেন। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাই তাকে আজকের আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির মেসিতে পরিণত করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুটবলের ইতিহাস বদলে দেওয়া লিওনেল মেসির নতুন রূপ

আপডেট সময় : ১১:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
print news

আর্জেন্টিনা যদি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে এই গৌরব অর্জন করে, তবে সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। এটি পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড। এবারের আসরে তিনি ইতিমধ্যে আটটি গোল করেছেন এবং দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে শীর্ষে থাকলেও, দর্শকদের চোখে এবারের মেসি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৩ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হওয়া সেই তরুণ উইঙ্গারের সঙ্গে বর্তমান মেসির পার্থক্য অনেক। এমবাপ্পের সামনে আর একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও গোল্ডেন বুটের ফয়সালা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা, যেখানে সব নজর থাকবে মেসির ওপর।

সাধারণত ফুটবলারদের পারফরম্যান্স বয়সের সঙ্গে হ্রাস পায়, কিন্তু কিংবদন্তিরা নিজেদের নতুনভাবে তৈরি করতে জানেন। যেমনটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গতি কমে যাওয়ার পর বক্সের ভেতরের গোলশিকারিতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। মেসিও নিজেকে বদলেছেন, তবে অবনতি সামাল দিতে নয়, বরং খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে। এই বিশ্বকাপে তিনি আগের চেয়ে কম দৌড়ালেও সুযোগ সৃষ্টি করছেন অনেক বেশি। তার ৩৩টি শট ও ২১টি গোলের সুযোগ তৈরির রেকর্ড মিলিয়ে মোট ৫৪টি আক্রমণাত্মক অবদান রয়েছে, যা ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর সর্বোচ্চ। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার অতিক্রান্ত দূরত্বের ৪৭ শতাংশই তিনি হেঁটে অতিক্রম করেছেন, যা এই টুর্নামেন্টে যেকোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৯০ মিনিটে তিনি গড়ে মাত্র ৮.২ কিলোমিটার দৌড়েছেন, যা আর্জেন্টিনার অন্তত ২০ মিনিট খেলা সব আউটফিল্ড ফুটবলারের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া প্রতি ম্যাচে তার গড় স্প্রিন্ট মাত্র ২.৭টি, যা চার বছর আগের ৫.৩ থেকে অনেক কম। গত ১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচে কেবল পোল্যান্ডই তাকে গোল বা অ্যাসিস্ট থেকে বিরত রাখতে পেরেছে, যেখানে এই ১৫ ম্যাচে তার অবদান ১৬ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট।

২০০৩ সালে ১৬ বছর বয়সে হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে প্রীতি ম্যাচে অভিষেকের সময় মেসি ছিলেন একজন ডান প্রান্তের উইঙ্গার, যিনি ড্রিবলিং ও ভেতরের দিকে কেটে আক্রমণ গড়ায় দক্ষ ছিলেন। এরপর থেকে অন্তত পাঁচবার তিনি নিজের খেলার ধরন বদলেছেন। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাই তাকে আজকের আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির মেসিতে পরিণত করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin