ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাইকে ধারণ করে না বিরোধীদলীয় নেতা, মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপূজায় জুয়েলারি বন্ধ, তবুও বহাল স্বর্ণের নতুন দাম দুর্গাপূজায় বন্ধের দিনেও কমল স্বর্ণের দাম, নতুন দর কার্যকর ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি: যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি নিজেদের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী আইনের চোখে সবাই সমান, কেউ ঊর্ধ্বে নয়: আইনমন্ত্রী মানবদেহ কি ভবিষ্যতে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব? বিজ্ঞান কী বলে হবিগঞ্জে মহাসমারোহে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ইউক্রেন যুদ্ধে স্টারশিল্ডের গতি সীমিতকরণ নিয়ে বিতর্ক সালমান খানকে ফের হত্যার হুমকি, অডিও বার্তায় চাঞ্চল্য

মানবদেহ কি ভবিষ্যতে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব? বিজ্ঞান কী বলে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্রায়োনিকস হলো মৃত ঘোষণা হওয়া মানুষের দেহ বা মস্তিষ্ককে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করার একটি বিশেষ পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত দেহকে পুনরায় কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। বর্তমানে কেবল আইনগতভাবে মৃত ঘোষণার পরই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব। আইনগত মৃত্যু বলতে মূলত হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বোঝায়, তবে মস্তিষ্কের সব কোষীয় কার্যক্রম তখনই সম্পূর্ণ থেমে যায় না। ক্রায়োনিকস সমর্থকরা এই পার্থক্যটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, সম্পূর্ণ মৃত্যু তখনই ঘটে যখন মস্তিষ্কের তথ্য সংরক্ষণের কাঠামোটি নষ্ট হয়ে যায়। যতক্ষণ সেই কাঠামো অক্ষত থাকে, ততক্ষণ ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধারের একটি সম্ভাবনা থাকে বলে তাঁরা দাবি করেন।

মৃত্যু ঘোষণার পরপরই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে দেহকে দ্রুত ঠান্ডা করে কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালন চালু রাখা হয়, যাতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব কম হয়। এরপর রক্ত ও পানিজাতীয় অংশ বের করে মেডিকেল গ্রেড ক্রায়োপ্রোটেক্ট্যান্ট দ্রবণ প্রবেশ করানো হয়, যা বরফ কণা তৈরি হতে বাধা দেয়। বরফ কণা কোষের ঝিল্লি ছিঁড়ে ফেলতে পারে বলে এই দ্রবণ অত্যন্ত জরুরি। এরপর ধাপে ধাপে দেহকে ঠান্ডা করা হয়। প্রথমে শুষ্ক বরফ এবং পরবর্তীতে তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করে তাপমাত্রা মাইনাস একশো ছিয়ানব্বই ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা হয়। এই তাপমাত্রায় সব জৈবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং দেহটি বিশেষ সিলিন্ডারে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

এই পদ্ধতির ইতিহাস পঞ্চাশের দশকে শুরু হয়। ১৯৫৪ সালে শুক্রাণু হিমায়িত করার সাফল্য আসে এবং ১৯৬২ সালে রবার্ট এটিঙ্গার তাঁর 'প্রসপেক্ট অব ইমর্টালিটি' বইয়ে মানবদেহ সংরক্ষণের ধারণা তুলে ধরেন। ১৯৬৭ সালে জেমস বেডফোর্ড প্রথম মানুষ হিসেবে এই পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হন, যাঁর দেহ এখনও সংরক্ষিত আছে। ১৯৭২ সালে অ্যালকর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশন এবং ১৯৭৬ সালে ক্রায়োনিকস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কয়েকশ মানুষ এইভাবে সংরক্ষিত আছেন, যাদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে এবং কিছু সুবিধা অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ায় রয়েছে। এই পদ্ধতির খরচ সংস্থাভেদে আটাশ হাজার থেকে দুই লাখ ডলারের বেশি হতে পারে, যার একটি বড় অংশ অনেকে জীবনবীমার মাধ্যমে মেটান।

ক্ষুদ্র কোষ, টিস্যু, শুক্রাণু, ডিম্বাণু, ভ্রূণ ও স্টেম সেল সংরক্ষণে বিজ্ঞান বেশ সাফল্য পেয়েছে। নেমাটোড কৃমি ও কিছু ছোট জীবকে হিমায়িত করে পুনরায় জীবিত করা সম্ভব হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঁদুরের কিডনি ও মস্তিষ্কের ছোট অংশে বৈদ্যুতিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার উদাহরণও রয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ স্তন্যপায়ী প্রাণী বা মানুষকে এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনা এখনো সম্ভব হয়নি। পুনর্জীবনের পথে অনেক বড় বাধা রয়েছে। মৃত্যুর পরপরই মস্তিষ্কের ক্ষতি শুরু হয়, ক্রায়োপ্রোটেক্ট্যান্ট নিজেই বিষাক্ত হতে পারে, এবং বড় দেহের তাপমাত্রা সমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এছাড়া মস্তিষ্কের কোটি কোটি স্নায়ু সংযোগ ঠিকমতো সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করা বর্তমান প্রযুক্তির বাইরে, কারণ মানুষের পরিচয় ও স্মৃতি এই সংযোগেই থাকে।

অনেক বিজ্ঞানী এই পদ্ধতিকে পরীক্ষামূলক ও অপ্রমাণিত বলে মনে করেন। তাঁদের মতে, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের পরিচিত নিয়মের মধ্যে থেকে পূর্ণাঙ্গ মানবদেহ পুনরুজ্জীবিত করা এখন সম্ভব নয়। সমর্থকরা ভবিষ্যতে ন্যানোপ্রযুক্তি বা উন্নত মেরামত প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখেন। তবে সংরক্ষণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন টিকে থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে কিছু কেন্দ্র বন্ধ হয়ে দেহ নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে ক্রায়োনিকস পদ্ধতিতে দেহ সংরক্ষণ করা গেলেও পুনর্জীবন সম্ভব নয়। এটি একটি অনিশ্চিত বাজি। বিজ্ঞান ধাপে ধাপে এগোলেও, আজকের দিনে কোনো সংরক্ষিত মানুষকে জীবিত করা যায়নি এবং এর কাছাকাছি কোনো প্রযুক্তিও নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মানবদেহ কি ভবিষ্যতে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব? বিজ্ঞান কী বলে

আপডেট সময় : ০৩:১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ক্রায়োনিকস হলো মৃত ঘোষণা হওয়া মানুষের দেহ বা মস্তিষ্ককে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করার একটি বিশেষ পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত দেহকে পুনরায় কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। বর্তমানে কেবল আইনগতভাবে মৃত ঘোষণার পরই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব। আইনগত মৃত্যু বলতে মূলত হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বোঝায়, তবে মস্তিষ্কের সব কোষীয় কার্যক্রম তখনই সম্পূর্ণ থেমে যায় না। ক্রায়োনিকস সমর্থকরা এই পার্থক্যটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, সম্পূর্ণ মৃত্যু তখনই ঘটে যখন মস্তিষ্কের তথ্য সংরক্ষণের কাঠামোটি নষ্ট হয়ে যায়। যতক্ষণ সেই কাঠামো অক্ষত থাকে, ততক্ষণ ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধারের একটি সম্ভাবনা থাকে বলে তাঁরা দাবি করেন।

মৃত্যু ঘোষণার পরপরই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে দেহকে দ্রুত ঠান্ডা করে কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালন চালু রাখা হয়, যাতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব কম হয়। এরপর রক্ত ও পানিজাতীয় অংশ বের করে মেডিকেল গ্রেড ক্রায়োপ্রোটেক্ট্যান্ট দ্রবণ প্রবেশ করানো হয়, যা বরফ কণা তৈরি হতে বাধা দেয়। বরফ কণা কোষের ঝিল্লি ছিঁড়ে ফেলতে পারে বলে এই দ্রবণ অত্যন্ত জরুরি। এরপর ধাপে ধাপে দেহকে ঠান্ডা করা হয়। প্রথমে শুষ্ক বরফ এবং পরবর্তীতে তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করে তাপমাত্রা মাইনাস একশো ছিয়ানব্বই ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা হয়। এই তাপমাত্রায় সব জৈবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং দেহটি বিশেষ সিলিন্ডারে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

এই পদ্ধতির ইতিহাস পঞ্চাশের দশকে শুরু হয়। ১৯৫৪ সালে শুক্রাণু হিমায়িত করার সাফল্য আসে এবং ১৯৬২ সালে রবার্ট এটিঙ্গার তাঁর 'প্রসপেক্ট অব ইমর্টালিটি' বইয়ে মানবদেহ সংরক্ষণের ধারণা তুলে ধরেন। ১৯৬৭ সালে জেমস বেডফোর্ড প্রথম মানুষ হিসেবে এই পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হন, যাঁর দেহ এখনও সংরক্ষিত আছে। ১৯৭২ সালে অ্যালকর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশন এবং ১৯৭৬ সালে ক্রায়োনিকস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কয়েকশ মানুষ এইভাবে সংরক্ষিত আছেন, যাদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে এবং কিছু সুবিধা অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ায় রয়েছে। এই পদ্ধতির খরচ সংস্থাভেদে আটাশ হাজার থেকে দুই লাখ ডলারের বেশি হতে পারে, যার একটি বড় অংশ অনেকে জীবনবীমার মাধ্যমে মেটান।

ক্ষুদ্র কোষ, টিস্যু, শুক্রাণু, ডিম্বাণু, ভ্রূণ ও স্টেম সেল সংরক্ষণে বিজ্ঞান বেশ সাফল্য পেয়েছে। নেমাটোড কৃমি ও কিছু ছোট জীবকে হিমায়িত করে পুনরায় জীবিত করা সম্ভব হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঁদুরের কিডনি ও মস্তিষ্কের ছোট অংশে বৈদ্যুতিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার উদাহরণও রয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ স্তন্যপায়ী প্রাণী বা মানুষকে এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনা এখনো সম্ভব হয়নি। পুনর্জীবনের পথে অনেক বড় বাধা রয়েছে। মৃত্যুর পরপরই মস্তিষ্কের ক্ষতি শুরু হয়, ক্রায়োপ্রোটেক্ট্যান্ট নিজেই বিষাক্ত হতে পারে, এবং বড় দেহের তাপমাত্রা সমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এছাড়া মস্তিষ্কের কোটি কোটি স্নায়ু সংযোগ ঠিকমতো সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করা বর্তমান প্রযুক্তির বাইরে, কারণ মানুষের পরিচয় ও স্মৃতি এই সংযোগেই থাকে।

অনেক বিজ্ঞানী এই পদ্ধতিকে পরীক্ষামূলক ও অপ্রমাণিত বলে মনে করেন। তাঁদের মতে, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের পরিচিত নিয়মের মধ্যে থেকে পূর্ণাঙ্গ মানবদেহ পুনরুজ্জীবিত করা এখন সম্ভব নয়। সমর্থকরা ভবিষ্যতে ন্যানোপ্রযুক্তি বা উন্নত মেরামত প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখেন। তবে সংরক্ষণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন টিকে থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে কিছু কেন্দ্র বন্ধ হয়ে দেহ নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে ক্রায়োনিকস পদ্ধতিতে দেহ সংরক্ষণ করা গেলেও পুনর্জীবন সম্ভব নয়। এটি একটি অনিশ্চিত বাজি। বিজ্ঞান ধাপে ধাপে এগোলেও, আজকের দিনে কোনো সংরক্ষিত মানুষকে জীবিত করা যায়নি এবং এর কাছাকাছি কোনো প্রযুক্তিও নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh