মাটির রহস্য জানতে অন্তর্বাস পুঁতে অভিনব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা
- আপডেট সময় : ০২:২৭:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

মাটির নিচ থেকে রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে সুতির অন্তর্বাস ব্যবহারের এক অভিনব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে সুইজারল্যান্ডে। এই নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পে প্রায় এক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে দুই হাজারের বেশি সুতির অন্তর্বাস এবং ১২ হাজার টি-ব্যাগ মাটির নিচে পুঁতে রাখেন। গত ২৬ আগস্ট এই গবেষণার ফলাফল সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়।
গবেষকরা জানান, মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো ক্ষুদ্র জীব কীভাবে জৈব পদার্থ ভেঙে ফেলে, তা বোঝার জন্যই এই পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি পরীক্ষার স্থানে দুটি করে অন্তর্বাস পুঁতে রাখা হয় এবং এক মাস ও দুই মাস পর সেগুলো তুলে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, এক মাস পর অন্তর্বাসের গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ উপাদান পচে গেছে, আর দুই মাস পর এই হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। গবেষকরা এই পরিমাপের নাম দিয়েছেন ‘আন্ডারপ্যান্ট ইনডেক্স’, যা মাটিতে জৈব পদার্থ পচনের হার নির্ণয়ে বহুল ব্যবহৃত ‘টি-ব্যাগ ইনডেক্স’-এর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, অন্তর্বাস কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছে তার ওপর পচনের হার ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। দুই মাস পর ব্যক্তিগত বাগানের মাটিতে সর্বোচ্চ ৫৮ শতাংশ পচন দেখা গেছে, যেখানে ঘাসের লনে এই হার ছিল সর্বনিম্ন প্রায় ৪০ শতাংশ। কৃষিজমি ও তৃণভূমিতে এর হার ছিল মাঝামাঝি পর্যায়ে। গবেষকদের মতে, মাটির ব্যবহার, পুষ্টি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পচনের হার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মাটিবিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলা। গবেষকদের মতে, যত বেশি অন্তর্বাসের কাপড় পচে যাবে, মাটির ভেতরের জীবজগত তত বেশি সক্রিয় বলে ধরা হয়। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এটি মাটির সামগ্রিক স্বাস্থ্য নির্ণয়ের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি নয়, বরং মাটির জৈব পদার্থ পচনের কার্যক্রম ও সম্ভাব্য উর্বরতা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা মাত্র। এই বিশাল নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, যা ছোট একটি গবেষক দলের পক্ষে এককভাবে করা প্রায় অসম্ভব ছিল। গবেষকদের মতে, এই অভিনব পরীক্ষা মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে মাটি শুধু ধুলা বা ময়লা নয়, বরং এর নিচে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অসংখ্য ক্ষুদ্র জীবের এক বিশাল জগত, যারা পৃথিবীর জৈব পদার্থের চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।





























