মঙ্গলে জেলিফিশের রহস্য: নাসার ক্যামেরায় ধরা পড়া দাগের আসল কারণ
- আপডেট সময় : ১২:৫০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

মঙ্গলের পাথুরে ভূদৃশ্যে জেলিফিশের মতো দেখতে কালো এক অদ্ভুত অবয়বের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দাবি করলেও বিজ্ঞানীরা একে ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি নাসা’র কিউরিওসিটি রোভারের ক্যামেরায় তৈরি হওয়া একটি ইমেজিং আর্টিফ্যাক্ট হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট মঙ্গলের গেইল ক্রেটার এলাকায় কিউরিওসিটি রোভার এই ছবিটি তুলেছিল। বিজ্ঞানীরা ছবিটির বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খুঁজে পেয়েছেন একই দৃশ্যের একাধিক ছবির মধ্যে। রহস্যময় অবয়বটি যে ছবিতে দেখা গেছে, সেটি ২০ আগস্ট ২০২৩ রাত ১০টা ২৭ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে তোলা। কিন্তু এর ১৩ সেকেন্ড এবং ২৫ সেকেন্ড আগের ছবিগুলোতে ওই একই জায়গায় কোনো অবয়ব বা দাগের উপস্থিতি ছিল না। ভূতাত্ত্বিক গঠনের ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এমন অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনা অসম্ভব হওয়ায় বিজ্ঞানীরা একে ক্যামেরার কারিগরি ত্রুটি হিসেবেই দেখছেন।
বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, মহাজাগতিক রশ্মি বা উচ্চশক্তির কণা কিউরিওসিটির ক্যামেরার সেন্সরে আঘাত করার কারণে ছবিতে সাময়িক এই দাগ তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও বায়ুমণ্ডল আমাদের এসব কণা থেকে রক্ষা করলেও মঙ্গলের কোনো বৈশ্বিক চৌম্বকক্ষেত্র নেই এবং বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত পাতলা। ফলে মঙ্গলে থাকা রোবটগুলো মহাজাগতিক রশ্মির আঘাতের মুখোমুখি বেশি হয়। জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির ইমেজিং বিজ্ঞানী জাস্টিন মাকি ২০১৪ সালেই এমন অস্বাভাবিক দাগের ব্যাখ্যায় জানিয়েছিলেন যে, কিউরিওসিটির হাজার হাজার ছবির মধ্যে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এমন উজ্জ্বল দাগ দেখা যায়, যা মহাজাগতিক রশ্মি অথবা পাথরের ওপর সূর্যের আলোর প্রতিফলনের কারণে সৃষ্টি হয়।
যদিও নাসার কিউরিওসিটি ইমেজিং দল আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই নির্দিষ্ট ‘জেলিফিশ’ দাগটিকে মহাজাগতিক রশ্মির ফল হিসেবে ঘোষণা করেনি, তবুও এটি যে মহাজাগতিক কোনো প্রাণী নয়, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত। বর্তমানে কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশ, শিলা ও রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে লাল গ্রহটি অতীতে কখনো জীবনের উপযোগী ছিল কি না, তা জানা সম্ভব হয়।





























