৫ আগস্টের পর ‘যদু-মধু-কদু’ এসে সর্বেসর্বা হয়েছে: উমামা ফাতেমা
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা দাবি করেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে দূরে সরিয়ে রেখে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর ফলে ৫ আগস্টের পর অনেকে এসে আন্দোলনের নেতৃত্বে সর্বেসর্বা হয়ে গেছেন।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন বলে জামায়াতের এই ছাত্রসংগঠনটি স্বীকার করার পর উমামা ফাতেমা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেকেই এখন ‘উড়ে এসে নেতা’ বনে গেছেন, যার মধ্যে সালাউদ্দিন আম্মার অন্যতম। উল্লেখ্য, গত বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১১ সেপ্টেম্বর সালাউদ্দিন আম্মারের সাথি পদ বাতিল করেছে।
জুলাই আন্দোলনের সময়কার সমন্বয়ক কমিটি প্রসঙ্গে উমামা ফাতেমা বলেন, ‘সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’ তার মতে, এ কারণেই ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে ‘যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।’ তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের হাতে বন্দী’ করার অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই সাবেক সমন্বয়ক। তিনি লিখেছেন, দেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ফেসবুকের ‘ম্যানিপুলেশন’ যথেষ্ট শক্তিশালী। তার অভিযোগ, ‘পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাইয়ের নামে ‘ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট’ বা কৃত্রিম জনমত তৈরি করে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার ক্ষেত্রে ফেসবুকের ‘এফিশিয়েন্ট টুল’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাংলাদেশেও একই ধরনের অপব্যবহারের আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া ‘হিরো’ বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নিয়েও তিনি সতর্ক করেন। তার ভাষ্যমতে, এমন অনেক ‘ম্যানুফ্যাকচারড ফিগার’ রয়েছে যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করার জন্য কাজ করছে। পরিশেষে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, ‘জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই।’ তিনি দাবি করেন, জামায়াত নিজেদের ‘গণহত্যার কালিমা’ ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি।




























