ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগামী ৭ জানুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ ওয়েবসাইট ও টেলিগ্রামে মাদক বিক্রি, ভাটারায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার প্যারিসে সহিংসতা ও অস্থিরতা: ২০২৭ নির্বাচন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরিত হচ্ছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ঢাকায় পা রাখল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শুরু হচ্ছে টেস্ট সিরিজের লড়াই গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত চাকরির বেতন ও বাসা ভাড়া নির্ধারণে মানুষের হয়ে লড়বে এআই বেতাগীতে অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ৯৯ বছর বয়সে বিমানের ডানায় দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন হেলগা

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী ও প্রস্তুতি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও কৌশল স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। যদিও নির্দলীয় এই নির্বাচনে কোনো দলই দলীয় প্রতীকে সরাসরি লড়ছে না, তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নাম প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে সরাসরি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটিতে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটিতে মো. আবদুস সালামকে মেয়র পদে প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সময় থেকেই তাদের নাগরিক সেবার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করার জন্য। আবদুস সালাম জানিয়েছেন, তিনি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে তিনি ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। এছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও প্রার্থী তালিকা অনেকটা নিশ্চিত। তারা ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাবেক ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তাদের প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার জানান, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য। এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। এছাড়া সাদিক কায়েম বর্তমানে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত রবিবার সরাসরি দুই সিটিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেছেন। আসিফ মাহমুদের জন্য এটি হবে নির্বাচনী রাজনীতির প্রথম অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে নিজ নিজ ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন; আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ও পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচিতির মধ্যে একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী ও প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও কৌশল স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। যদিও নির্দলীয় এই নির্বাচনে কোনো দলই দলীয় প্রতীকে সরাসরি লড়ছে না, তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নাম প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে সরাসরি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটিতে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটিতে মো. আবদুস সালামকে মেয়র পদে প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সময় থেকেই তাদের নাগরিক সেবার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করার জন্য। আবদুস সালাম জানিয়েছেন, তিনি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে তিনি ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। এছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও প্রার্থী তালিকা অনেকটা নিশ্চিত। তারা ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাবেক ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তাদের প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার জানান, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য। এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। এছাড়া সাদিক কায়েম বর্তমানে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত রবিবার সরাসরি দুই সিটিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেছেন। আসিফ মাহমুদের জন্য এটি হবে নির্বাচনী রাজনীতির প্রথম অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে নিজ নিজ ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন; আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ও পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচিতির মধ্যে একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo