ফ্যাসিবাদী শাসন ঠেকাতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি শফিকুর রহমানের
- আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসা রোধে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে গত ১২ই ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৬৮.২ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। আদালত চাইলে যেকোনো সাধারণ আইন বাতিল করতে পারে, কিন্তু গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে প্রণীত আইন কেউ বাতিল করতে পারে না। তাই এই ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমীর বলেন, দেশে দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ে স্বয়ং মহামান্য প্রেসিডেন্টও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দুর্নীতির এই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফলতার মুখ দেখবে না, বরং সব অর্থ দুর্নীতিবাজদের পেটে চলে যাবে। দেশের অর্থনীতির দুই মূল স্তম্ভ—ব্যাংকিং খাত ও শেয়ার বাজার বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এসব খাতকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে চাকরিতে কোনো কোটা না রেখে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
প্রতিবেশী ভারতের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমরা সবসময় সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কিন্তু ভারত আমাদের দেশের চিহ্নিত খুনিদের কেবল আশ্রয়ই দিচ্ছে না, বরং সেখান থেকে বসে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যথাদায়ক। সীমান্তে ফেলানীর মতো আর কোনো লাশ দেখতে চান না উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলবে এবং কারও অধীনতা আর মেনে নেবে না।
দেশের শিল্প ও কৃষি খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্প মালিকরা দেউলিয়া হয়ে গেলে ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংস হবে এবং অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে বাঁচাতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবি জানান তিনি।
সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পদ হস্তান্তর আইন’ (প্রপার্টি ট্রান্সফার)-কে কোরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে এই বিলে সই না করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি অনুরোধ জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিলটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আলেমদের দিয়ে পুনরায় পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন। পরিশেষে তিনি বলেন, তারা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চান না, বরং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যেতে চান। সংসদে তাদের বক্তব্য সবসময় যৌক্তিক ও শালীন হবে এবং কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হবে না, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।




























