ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা নিয়ে জাতীয় স্বার্থে গভীর মূল্যায়নের দাবি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বঙ্গোপসাগর ও চট্টগ্রাম বন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি–সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ শঙ্কা প্রকাশ করেন। বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন এবং বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এম এম আকাশ চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের ‘স্নায়ুমুখ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দেশের জিডিপির একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই জাতীয় স্বার্থের আলোকে এ ধরনের চুক্তির গভীর মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে দিলে যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বা জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, তার কোনো প্রমাণ নেই। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো বিদেশি শক্তির তাঁবেদারি জনগণ মেনে নেবে না এবং অবিলম্বে এই চুক্তির উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে বড় ধরনের আধুনিকায়নের সুযোগ সীমিত। বিদ্যমান যন্ত্রপাতি দিয়েই বহু বছর কার্যক্রম চালানো সম্ভব। বিদেশি অপারেটর এলেই বন্দরের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে—এই ধারণাটি প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক এম এ সাঈদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় রাজনৈতিক দল, শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে একটি সর্বজনীন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

সভায় বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজার সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বাংলাদেশের জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়নের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি তপন দত্ত, চট্টগ্রাম সিবিএর সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা তসলিম হোসেন, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান ভূঁইয়া এবং সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য মছিউদ্দৌলা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা নিয়ে জাতীয় স্বার্থে গভীর মূল্যায়নের দাবি

আপডেট সময় : ০৭:০৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বঙ্গোপসাগর ও চট্টগ্রাম বন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি–সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ শঙ্কা প্রকাশ করেন। বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন এবং বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এম এম আকাশ চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের ‘স্নায়ুমুখ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দেশের জিডিপির একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই জাতীয় স্বার্থের আলোকে এ ধরনের চুক্তির গভীর মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে দিলে যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বা জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, তার কোনো প্রমাণ নেই। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো বিদেশি শক্তির তাঁবেদারি জনগণ মেনে নেবে না এবং অবিলম্বে এই চুক্তির উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে বড় ধরনের আধুনিকায়নের সুযোগ সীমিত। বিদ্যমান যন্ত্রপাতি দিয়েই বহু বছর কার্যক্রম চালানো সম্ভব। বিদেশি অপারেটর এলেই বন্দরের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে—এই ধারণাটি প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক এম এ সাঈদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় রাজনৈতিক দল, শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে একটি সর্বজনীন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

সভায় বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজার সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বাংলাদেশের জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়নের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি তপন দত্ত, চট্টগ্রাম সিবিএর সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা তসলিম হোসেন, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান ভূঁইয়া এবং সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য মছিউদ্দৌলা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo