জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনের ওপর জোর
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বুধবার সংসদ ভবনে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। এই অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে, তবে প্রয়োজনে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
চিফ হুইপ জানান, তৃতীয় অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষাসহ প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার পাবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণের আস্থার ভিত্তিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হবে। সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে বিএনপি থেকে ৭ জন এবং জামায়াত থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি ভারতের সংবিধানের ৭৬ ও ১০৬ অনুচ্ছেদের উদাহরণ টেনে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল সংসদে জনগণের সমস্যাগুলো তুলে ধরবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে। তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারের পক্ষেই মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন জানিয়ে তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি সম্পর্কে চিফ হুইপ অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। দায়মুক্তির ব্যবস্থার কারণে এসব চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত ছিল। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।





























