ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শৈলকুপা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুরস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নেপালে হিমবাহ ধসে মৃতের সংখ্যা ৪৭২, নতুন বন্যার ঝুঁকিতে এলাকা কারওয়ান বাজারে শুরু হলো প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘লেখক বন্ধু উৎসব’ সিলেটে হাম ও উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নেপাল সীমান্তে হিমালয় কন্যার বুকে প্রলয়ংকরী জলবোমার আঘাত সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়ো এখন ওষুধ শিল্পের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে অর্থনৈতিক চাপে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা আঘাতের হুমকি ইরানের ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াত ১৬ বছর আ.লীগের ভেতরে লুকিয়ে ছিল: রাশেদ খাঁন নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ইরানি জেনারেলের

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রুমিন ফারহানাসহ যে ৬ জন ভোট দেননি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেননি রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন সংসদ সদস্য। তাঁদের ভোট না দেওয়ার পেছনে শারীরিক অসুস্থতা, বিদেশ অবস্থান এবং নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক আপত্তির মতো ভিন্ন ভিন্ন কারণ রয়েছে।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর আগে আদালতের রায়ে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ায় ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জনে নেমে আসে। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। আর ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

ভোট না দেওয়া এই ছয়জন সংসদ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এছাড়া বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় ভোট দিতে পারেননি। ভোট দেননি বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক এবং খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান। আবুল হাসান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের। এছাড়া জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।

ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে তাঁর আপত্তির তিনটি প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমত, এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অর্থহীন ও প্রহসনমূলক বলে অভিহিত করেছেন তিনি। তাঁর মতে, "আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।"

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে রুমিন ফারহানা বলেন, এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর, যার সঙ্গে পুরো জাতির আত্মত্যাগ ও স্বপ্ন জড়িয়ে রয়েছে, সেখানে কেন সবাই মিলে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা গেল না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তৃতীয় এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তিনি বিএনপির দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখিয়েছে, অথচ ২০১৬ সাল থেকে তারা তাদের 'ভিশন ২০৩০' নিয়ে বড় বড় কথা বলে আসছে। এখন তারা বলছে দলের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হবে। এমন প্রহসনের ভোটে অংশ নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। তবে পদ শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী উপ-নির্বাচনে তাঁর পুনরায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকে না।

অন্যদিকে, ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের দলের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে 'জুলাই সনদে' যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা থেকে সরে আসার কারণে তাঁরা এই নির্বাচনে ভোট দেবেন না। অবশ্য পরবর্তীতে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের ওই সংসদ সদস্য শেষ পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রুমিন ফারহানাসহ যে ৬ জন ভোট দেননি

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেননি রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন সংসদ সদস্য। তাঁদের ভোট না দেওয়ার পেছনে শারীরিক অসুস্থতা, বিদেশ অবস্থান এবং নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক আপত্তির মতো ভিন্ন ভিন্ন কারণ রয়েছে।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর আগে আদালতের রায়ে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ায় ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জনে নেমে আসে। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। আর ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

ভোট না দেওয়া এই ছয়জন সংসদ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এছাড়া বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় ভোট দিতে পারেননি। ভোট দেননি বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক এবং খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান। আবুল হাসান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের। এছাড়া জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।

ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে তাঁর আপত্তির তিনটি প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমত, এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অর্থহীন ও প্রহসনমূলক বলে অভিহিত করেছেন তিনি। তাঁর মতে, "আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।"

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে রুমিন ফারহানা বলেন, এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর, যার সঙ্গে পুরো জাতির আত্মত্যাগ ও স্বপ্ন জড়িয়ে রয়েছে, সেখানে কেন সবাই মিলে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা গেল না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তৃতীয় এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তিনি বিএনপির দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখিয়েছে, অথচ ২০১৬ সাল থেকে তারা তাদের 'ভিশন ২০৩০' নিয়ে বড় বড় কথা বলে আসছে। এখন তারা বলছে দলের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হবে। এমন প্রহসনের ভোটে অংশ নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। তবে পদ শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী উপ-নির্বাচনে তাঁর পুনরায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকে না।

অন্যদিকে, ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের দলের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে 'জুলাই সনদে' যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা থেকে সরে আসার কারণে তাঁরা এই নির্বাচনে ভোট দেবেন না। অবশ্য পরবর্তীতে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের ওই সংসদ সদস্য শেষ পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo