রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরুল হকের
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক মন্তব্য করেছেন যে, প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন।
নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এখন নির্বাচিত সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে, আর ১৯৭১ সালেও জামায়াত-শিবির ভয়াবহ গণহত্যা, লুটপাট ও গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাই তাদেরও নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করলে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে। তিনি জাতিসংঘের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে জানান, আল-কায়েদা বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এবং জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে তারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন যে, জামায়াত-শিবির ক্যাডার তৈরি করে অস্ত্র পরিচালনা করে থাকে।
আওয়ামী লীগের আমলের তুলনায় জামায়াত-শিবিরকে বর্তমানে একটি জালেম সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই উগ্রবাদী গোষ্ঠী ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগকে একই ধরনের ফ্যাসিস্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত সুযোগ না পেলেও তাদের তাণ্ডব প্রমাণ করে যে তাদের অতীতে রগকাটা, ধর্ষণ ও দখলদারত্বের ইতিহাস রয়েছে।
নুরুল হকের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জামায়াত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল ও ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারার চেষ্টা করছে জামায়াত। এছাড়া ওয়াজ ও জুমার খুতবায় আমির হামজার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্বেষ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী বক্তব্য প্রতিহত করতে হবে। আমির হামজার বিকৃত মানসিকতাকে জামায়াত সমর্থন দিচ্ছে দাবি করে তিনি দলটির নৈতিক অধঃপতন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান। ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকেই জামায়াত বর্তমান সরকারের বিষোদ্গার শুরু করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।




























