বিএনপির নতুন মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রিজভীসহ চার নেতা
- আপডেট সময় : ০১:১১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত শনিবার তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার লিখিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে মির্জা ফখরুল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে তার বর্তমান পদ শূন্য হবে, আর তাই বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলটির ভেতরে ও বাইরে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ পরবর্তী মহাসচিব হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁরা বলছেন, নির্মোহভাবে দেখলে বলা যায়, বিএনপির সর্বস্তরের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে রিজভী আহমেদের। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের অনেক সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘসময় যুক্ত থাকায় সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন রিজভী। নিষ্ঠার সঙ্গে দলের দেওয়া দায়িত্বটুকু পালন করেছেন। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেল-জুলুম সহ্য করে তিনি দলের প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং পরে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাধারণত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে পরবর্তী মহাসচিব মনে করা হয়। প্রথমে মির্জা ফখরুলের মতো রিজভীকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে। এরপর কাউন্সিলে তাকে ভারমুক্ত করা হতে পারে।
মহাসচিব পদের দৌড়ে রিজভী ছাড়াও আরও তিন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এই চার নেতার সবাই জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতা। বর্তমান সরকারে তারা প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে; তিনি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘদিন ভূমিকা রেখে আসছেন। অন্যদিকে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কূটনৈতিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অভিজ্ঞতা দলকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সহায়ক হতে পারে। আবার ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে দলের মাঠপর্যায়ের সংগঠক হিসেবে মূল্যায়ন করেন অনেকে। তবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে রুহুল কবির রিজভীর গ্রহণযোগ্যতা ও রাজপথে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন অনেক কেন্দ্রীয় নেতা।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী জানান, মহাসচিব পদ নিয়ে দলের ভেতর কী আলোচনা হচ্ছে তা তার জানা নেই। তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়ে কাজ করছেন এবং দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকরাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং সেক্ষেত্রে রিজভীর মতো পরিচিত মুখ সংগঠনকে ধারাবাহিকতা দিতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজন নেতা বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।





























