জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সম্মুখসারির নারীদের হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ
- আপডেট সময় : ০৪:১৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নারীরা ছিলেন আন্দোলনের সম্মুখসারিতে, অথচ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকেই হারিয়ে গেছেন। তাঁদের এই বীরত্বগাথা আড়ালেই থেকে গেছে এবং বাংলাদেশে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার চর্চার প্রবণতা আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির কারণ এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইডিইবি) আয়োজিত ‘জুলাই নারী সমাবেশ ২০২৬’-এ আলোচনা করেন অংশ নেওয়া নারীরা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পেছনে জুলাইয়ের আন্দোলনের ভূমিকা অপরিসীম। আন্দোলনের মোড় ঘোরানোর অন্যতম ঘটনা ছিল ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের পর ছাত্রীদের পাঁচটি হলের তালা ভেঙে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হওয়া এবং পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা। এই ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে আয়োজিত সমাবেশে নারীরা নিজেদের হতাশা ও অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ থাকলেও গত দুই বছরে রাজনৈতিক দল বা সামগ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন ঘটেনি। নারীরা কেন এখন নেই—এই যৌক্তিক প্রশ্নটি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জুলাইয়ের পরও রাষ্ট্রকাঠামোয় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি।
জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম ও ডাকসুর সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা ঝুমা এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাফিয়া রেহনুমা হৃদি।




























