ইসলামী অর্থব্যবস্থায় ধনী-গরিবের ভারসাম্য ও সম্পদের বণ্টন
- আপডেট সময় : ১০:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হলো সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থব্যবস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আর ইসলামি সমাজব্যবস্থা একটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহতায়ালা পৃথিবীর শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি মানুষের অন্তর দেখেন এবং সম্পদ বা দারিদ্র্যের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, 'আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে রুজিতে প্রাচুর্য দিলে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে সে পরিমাণই দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদের সম্যক জানেন, দেখেন' (সুরা শুরা : ২৭)।
বর্তমান বিশ্বে আর্থিক বৈষম্যের প্রধান কারণ হলো মানবতার অভাব। অর্থের প্রাচুর্য অনেক সময় মানুষের মধ্যে ভোগবিলাস, অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ ও কৃপণতা তৈরি করে, যা মানুষকে পশুপ্রবৃত্তির দিকে ধাবিত করে। এই অহংকার ও বৈষম্য নিয়ন্ত্রণে আল্লাহতায়ালা জাকাত ও ফিতরার বিধান নাজিল করেছেন, যা মানুষের চারিত্রিক বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের একটি মাধ্যম।
বিশ্বের আটশো কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র আটজনের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ কুক্ষিগত রয়েছে, তা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষের মোট সম্পদের সমান। এই মুষ্টিমেয় ধনী ব্যক্তি চাইলে একটি রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম, কিন্তু তা না করার ফলে সাধারণ মানুষ কষ্টের শিকার হচ্ছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যদি সম্পদশালীদের সম্পদ অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়, তবেই সমাজে প্রকৃত শান্তি ও ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং সামগ্রিক উন্নতি সাধিত হবে।




























