ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ ৫ বছর পর ন্যান্সি ও জাহিদ নিরবের দ্বৈত গান ‘দিওয়ানা দিল’ তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭ পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা জাতীয় ক্রিকেট লিগে একদিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে দুর্গাপূজায় নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সজাগ থাকার আহ্বান রিজভীর আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা, রিমান্ডের আদেশ চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন নতুন রেকর্ডের হাতছানি হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনার সামনে

বাংলাদেশ হয়ে দ্বৈত নাগরিকদের হজে যাওয়ার আইনি ও নৈতিক দিক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাজ্য থেকে হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিক এখন বাংলাদেশ হয়ে হজে যাওয়ার বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে এ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ব্যবহার, ইমিগ্রেশন আইন ও নৈতিকতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে, যা প্রত্যেক হজযাত্রীর জানা আবশ্যক। বিশিষ্ট আইনজীবী, সংবিধান ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নৈতিক দিক তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বড় সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, ব্রিটিশ মুসলমানদের জন্য হজের কোটা সীমিত এবং তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাজ্য থেকে হজে যাওয়ার খরচ বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার চেয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের হজের কোটা অনেক বড় এবং প্রতি বছরই কিছু কোটা অপূরণীয় থেকে যায়। দ্বৈত নাগরিক হিসেবে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা বাংলাদেশেরও পূর্ণ নাগরিক। তাই আইনি কোনো বাধা ছাড়াই তারা এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা একই সাথে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি দুটি পাসপোর্টই বহন এবং ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি। ভ্রমণের একটি নির্দিষ্ট অংশে যে পাসপোর্ট ব্যবহার করা হবে, সেটির বহির্গমন ও আগমন সিল একই পাসপোর্টে থাকা উচিত। অন্যথায় বিমানবন্দরে বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। ব্যারিস্টার নাজির আহমদ জানান, বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন যে, পাসপোর্টের অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যবহারের কারণে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা পোহাতে হয়। তবে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে ব্রিটিশ নাগরিকদের যাওয়ার সময় বা ফেরার সময় কোনো সিল দেওয়া হয় না, কারণ ব্রিটিশ নাগরিকরা সে দেশের ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের আওতাভুক্ত নন। তারা ইলেকট্রনিক মেশিনের মাধ্যমে সহজেই যাতায়াত করতে পারেন।

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজে যাওয়ার জন্য ফিরতি টিকিট (রিটার্ন টিকিট) নেওয়া বাধ্যতামূলক, কারণ ওয়ান-ওয়ে টিকিটে হজের ভিসা দেওয়া হয় না। কিন্তু অনেক দ্বৈত নাগরিক কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গোপনে সৌদি আরব থেকে লন্ডনের আরেকটি ওয়ান-ওয়ে টিকিট কাটেন। তারা ব্রিটিশ পাসপোর্ট দিয়ে বোর্ডিং পাস নিলেও চেক-ইনের পর ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখান, যাতে বাংলাদেশে আসার আগমন সিল রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অন্ধকারে রাখে বা বিভ্রান্ত করে, যা পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়া একজন হাজীর জন্য নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এছাড়া, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা থেকে পৌঁছানোর পর সব হজযাত্রীর বাংলাদেশি পাসপোর্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। হজের পুরো সময়ে এই পাসপোর্ট তাদের কাছেই থাকে এবং সৌদি আরব ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে তা ফেরত দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে গোপনে নিজের কাছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট রেখে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো আকস্মিক স্পট ভেরিফিকেশন বা জরুরি পরিস্থিতিতে ধরা পড়লে বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হবে, কারণ হজ মৌসুমের তীব্র চাপের মুখে থাকা সৌদি কর্মকর্তারা কোনো ব্যাখ্যা শুনতে চাইবেন না।

যুক্তরাজ্যে যারা সরকারি সামাজিক সুবিধা বা সোশ্যাল বেনিফিট পান, তাদের জন্যও কিছু নিয়ম রয়েছে। আইন অনুযায়ী তারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ দিনের জন্য দেশের বাইরে থাকতে পারেন। অনেকে না জানিয়ে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকলেও ধরা পড়লে পুরো টাকা জরিমানা হিসেবে ফেরত দিতে হয় এবং আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। তাই হজের মতো একটি পবিত্র ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লুকোচুরি, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর উপায় অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই আইনি বিশেষজ্ঞ।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে হজ সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি, ব্যবসায়ী এবং দ্বৈত নাগরিকদের উচিত সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা। বিশেষ করে, দ্বৈত নাগরিকরা যাতে ঢাকা-সৌদি-লন্ডন ওয়ান-ওয়ে টিকিটের মাধ্যমে সহজেই হজ ভিসা পেতে পারেন এবং বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট লিখিত নির্দেশনা থাকে, সে বিষয়ে শক্তিশালী লবিং ও প্রতিনিধিত্ব করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্যারিস্টার নাজির আহমদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ হয়ে দ্বৈত নাগরিকদের হজে যাওয়ার আইনি ও নৈতিক দিক

আপডেট সময় : ১০:০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্য থেকে হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিক এখন বাংলাদেশ হয়ে হজে যাওয়ার বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে এ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ব্যবহার, ইমিগ্রেশন আইন ও নৈতিকতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে, যা প্রত্যেক হজযাত্রীর জানা আবশ্যক। বিশিষ্ট আইনজীবী, সংবিধান ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নৈতিক দিক তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বড় সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, ব্রিটিশ মুসলমানদের জন্য হজের কোটা সীমিত এবং তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাজ্য থেকে হজে যাওয়ার খরচ বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার চেয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের হজের কোটা অনেক বড় এবং প্রতি বছরই কিছু কোটা অপূরণীয় থেকে যায়। দ্বৈত নাগরিক হিসেবে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা বাংলাদেশেরও পূর্ণ নাগরিক। তাই আইনি কোনো বাধা ছাড়াই তারা এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা একই সাথে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি দুটি পাসপোর্টই বহন এবং ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি। ভ্রমণের একটি নির্দিষ্ট অংশে যে পাসপোর্ট ব্যবহার করা হবে, সেটির বহির্গমন ও আগমন সিল একই পাসপোর্টে থাকা উচিত। অন্যথায় বিমানবন্দরে বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। ব্যারিস্টার নাজির আহমদ জানান, বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন যে, পাসপোর্টের অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যবহারের কারণে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা পোহাতে হয়। তবে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে ব্রিটিশ নাগরিকদের যাওয়ার সময় বা ফেরার সময় কোনো সিল দেওয়া হয় না, কারণ ব্রিটিশ নাগরিকরা সে দেশের ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের আওতাভুক্ত নন। তারা ইলেকট্রনিক মেশিনের মাধ্যমে সহজেই যাতায়াত করতে পারেন।

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজে যাওয়ার জন্য ফিরতি টিকিট (রিটার্ন টিকিট) নেওয়া বাধ্যতামূলক, কারণ ওয়ান-ওয়ে টিকিটে হজের ভিসা দেওয়া হয় না। কিন্তু অনেক দ্বৈত নাগরিক কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গোপনে সৌদি আরব থেকে লন্ডনের আরেকটি ওয়ান-ওয়ে টিকিট কাটেন। তারা ব্রিটিশ পাসপোর্ট দিয়ে বোর্ডিং পাস নিলেও চেক-ইনের পর ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখান, যাতে বাংলাদেশে আসার আগমন সিল রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অন্ধকারে রাখে বা বিভ্রান্ত করে, যা পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়া একজন হাজীর জন্য নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এছাড়া, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা থেকে পৌঁছানোর পর সব হজযাত্রীর বাংলাদেশি পাসপোর্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। হজের পুরো সময়ে এই পাসপোর্ট তাদের কাছেই থাকে এবং সৌদি আরব ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে তা ফেরত দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে গোপনে নিজের কাছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট রেখে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো আকস্মিক স্পট ভেরিফিকেশন বা জরুরি পরিস্থিতিতে ধরা পড়লে বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হবে, কারণ হজ মৌসুমের তীব্র চাপের মুখে থাকা সৌদি কর্মকর্তারা কোনো ব্যাখ্যা শুনতে চাইবেন না।

যুক্তরাজ্যে যারা সরকারি সামাজিক সুবিধা বা সোশ্যাল বেনিফিট পান, তাদের জন্যও কিছু নিয়ম রয়েছে। আইন অনুযায়ী তারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ দিনের জন্য দেশের বাইরে থাকতে পারেন। অনেকে না জানিয়ে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকলেও ধরা পড়লে পুরো টাকা জরিমানা হিসেবে ফেরত দিতে হয় এবং আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। তাই হজের মতো একটি পবিত্র ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লুকোচুরি, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর উপায় অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই আইনি বিশেষজ্ঞ।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে হজ সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি, ব্যবসায়ী এবং দ্বৈত নাগরিকদের উচিত সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা। বিশেষ করে, দ্বৈত নাগরিকরা যাতে ঢাকা-সৌদি-লন্ডন ওয়ান-ওয়ে টিকিটের মাধ্যমে সহজেই হজ ভিসা পেতে পারেন এবং বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট লিখিত নির্দেশনা থাকে, সে বিষয়ে শক্তিশালী লবিং ও প্রতিনিধিত্ব করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্যারিস্টার নাজির আহমদ।