ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অর্থায়ন সংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর জরুরি সহায়তা বন্ধের ঝুঁকি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দাতাদের ব্যাপক হারে অর্থায়ন কাটছাঁটের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান ঘাটতির কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং রাষ্ট্রহীনদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউএনএইচসিআর ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অনুদান পেলেও ২০২৫ সালে তা কমে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অথচ বর্তমান বিশ্বে সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সংস্থাটির হিসাবমতে, চলতি বছর শরণার্থীদের সুরক্ষার জন্য অন্তত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু জুলাই মাস পর্যন্ত তারা এর মাত্র ৩২ শতাংশ বা ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছে। এই তহবিল ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে ৮৩ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর।

ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, তহবিল কাটছাঁট অব্যাহত থাকায় বিশ্বের প্রধান শরণার্থী এলাকাগুলোতে সহায়তা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যদিও সংস্থাটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সংস্কার ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবুও ঘাটতি এতটাই বড় যে জরুরি কাজগুলোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের এক্সটারনাল রিলেশনস প্রধান ডমিনিক হাইড বলেন, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে নেমে গেলে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তখন শুধু যে কম মানুষ সেবা পায় তা নয়, বরং সেবামূলক কার্যক্রমগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ, যার মধ্যে ৩ কোটি ৫৬ লাখ শরণার্থী সরাসরি ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশই মূলত ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও সুদানের নাগরিক। অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ায় ইউএনএইচসিআর বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে তাদের মোট জনবলের এক-চতুর্থাংশের বেশি বা প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। বিশ্বের প্রধান দাতা দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বড় দাতা দেশগুলো তাদের বৈদেশিক সহায়তা ব্যাপক হারে কমিয়ে দেওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থায়ন সংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর জরুরি সহায়তা বন্ধের ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৮:২৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাতাদের ব্যাপক হারে অর্থায়ন কাটছাঁটের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান ঘাটতির কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং রাষ্ট্রহীনদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউএনএইচসিআর ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অনুদান পেলেও ২০২৫ সালে তা কমে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অথচ বর্তমান বিশ্বে সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সংস্থাটির হিসাবমতে, চলতি বছর শরণার্থীদের সুরক্ষার জন্য অন্তত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু জুলাই মাস পর্যন্ত তারা এর মাত্র ৩২ শতাংশ বা ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছে। এই তহবিল ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে ৮৩ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর।

ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, তহবিল কাটছাঁট অব্যাহত থাকায় বিশ্বের প্রধান শরণার্থী এলাকাগুলোতে সহায়তা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যদিও সংস্থাটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সংস্কার ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবুও ঘাটতি এতটাই বড় যে জরুরি কাজগুলোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের এক্সটারনাল রিলেশনস প্রধান ডমিনিক হাইড বলেন, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে নেমে গেলে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তখন শুধু যে কম মানুষ সেবা পায় তা নয়, বরং সেবামূলক কার্যক্রমগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ, যার মধ্যে ৩ কোটি ৫৬ লাখ শরণার্থী সরাসরি ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশই মূলত ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও সুদানের নাগরিক। অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ায় ইউএনএইচসিআর বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে তাদের মোট জনবলের এক-চতুর্থাংশের বেশি বা প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। বিশ্বের প্রধান দাতা দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বড় দাতা দেশগুলো তাদের বৈদেশিক সহায়তা ব্যাপক হারে কমিয়ে দেওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh