ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ ৫ বছর পর ন্যান্সি ও জাহিদ নিরবের দ্বৈত গান ‘দিওয়ানা দিল’ তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭ পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা জাতীয় ক্রিকেট লিগে একদিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে দুর্গাপূজায় নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সজাগ থাকার আহ্বান রিজভীর আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা, রিমান্ডের আদেশ চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন নতুন রেকর্ডের হাতছানি হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনার সামনে

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক আচরণ ও রাজনৈতিক সংকট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপের মুখে পড়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদের ২০ মাসের মাথায় তার অজেয় ভাবমূর্তি এবং বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ভবনে প্রবেশের সময় সিএনএনের উপস্থাপক কেইটলান কলিন্সকে দেখে ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সিএনএন এখানে আমার খবর করছে দেখে আমি অবাক হয়েছি। আপনাদের এখানে আমার খবর করা উচিত নয়।’ অতীতে হোয়াইট হাউসে সিএনএনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আদালত আটকে দিয়েছিল, যা ট্রাম্পের ক্রমহ্রাসমান নিয়ন্ত্রণের একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপে মার্কিন ফেডারেল আদালত বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একইসাথে কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের মধ্যেও আগের মতো আনুগত্য দেখা যাচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো তার জনসমর্থনে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান কৌশলবিদ রিক উইলসন একে ‘শেষের শুরু’ বা ‘পতনের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ভোটারদের মধ্যে হতাশা জিমি কার্টারের সময়ের পর আর দেখা যায়নি।

গত এক মাসে ট্রাম্প বেশ কয়েকটি ধাক্কা খেয়েছেন। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হারের প্রশ্নে তার চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। এছাড়া নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্ট আটকে দিয়েছে। কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার চেষ্টা এবং সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে তাদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ তার জন্য বড় রাজনৈতিক পরাজয়।

রিপাবলিকান পার্টিতেও এখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। দলের অনেক প্রার্থী নির্বাচনে আসন হারানোর ভয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। ফ্লোরিডার গভর্নর পদপ্রার্থী বায়রন ডোনাল্ডস তার ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের অধিকাংশ উল্লেখ সরিয়ে ফেলেছেন। কংগ্রেসওম্যান মারিয়া এলভিরা সালাজারের প্রচার বিজ্ঞাপনে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকে ‘অতিরিক্ত’ বলে সমালোচনা করা হয়েছে এবং লাতিনো ভোটারদের মধ্যে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অনুভূতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিক উইলসনের মতে, রিপাবলিকানরা এতদিন প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বী বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের আক্রমণের ভয়ে চুপ ছিলেন, কিন্তু এখন তাদের কাছে রাজনৈতিক আত্মরক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প রাজনৈতিক বোঝা হয়ে ওঠায় তিনি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন এবং পুরোনো কৌশলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত, সাংস্কৃতিক ইস্যু ও রাজনৈতিক প্রদর্শনীর পথে ফিরছেন। তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অর্থনীতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি খাতে বড় সাফল্যের দাবি করেছে। ট্রাম্পের সামনে এখন আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মনোযোগ ধীরে ধীরে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের দিকে সরে যাচ্ছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো বিল গ্যালস্টন মনে করেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো সম্ভাব্য প্রার্থীদের দিকে মনোযোগ সরে যাওয়া ট্রাম্পের জন্য চরম অস্বস্তিকর। ইতিহাসবিদ অ্যালান লিচম্যান একে ‘দ্বিতীয় মেয়াদের অভিশাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। রক্ষণশীল লেখক চার্লি সাইকসের ভাষায়, ট্রাম্প প্রাসঙ্গিকতা হারানোকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং তিনি নীরবে সরে যাবেন না—বরং এর পরিহাস হচ্ছে, তিনি যত দুর্বল হচ্ছেন, ততই বিপজ্জনক হয়ে উঠছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক আচরণ ও রাজনৈতিক সংকট

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপের মুখে পড়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদের ২০ মাসের মাথায় তার অজেয় ভাবমূর্তি এবং বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ভবনে প্রবেশের সময় সিএনএনের উপস্থাপক কেইটলান কলিন্সকে দেখে ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সিএনএন এখানে আমার খবর করছে দেখে আমি অবাক হয়েছি। আপনাদের এখানে আমার খবর করা উচিত নয়।’ অতীতে হোয়াইট হাউসে সিএনএনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আদালত আটকে দিয়েছিল, যা ট্রাম্পের ক্রমহ্রাসমান নিয়ন্ত্রণের একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপে মার্কিন ফেডারেল আদালত বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একইসাথে কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের মধ্যেও আগের মতো আনুগত্য দেখা যাচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো তার জনসমর্থনে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান কৌশলবিদ রিক উইলসন একে ‘শেষের শুরু’ বা ‘পতনের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ভোটারদের মধ্যে হতাশা জিমি কার্টারের সময়ের পর আর দেখা যায়নি।

গত এক মাসে ট্রাম্প বেশ কয়েকটি ধাক্কা খেয়েছেন। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হারের প্রশ্নে তার চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। এছাড়া নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্ট আটকে দিয়েছে। কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার চেষ্টা এবং সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে তাদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ তার জন্য বড় রাজনৈতিক পরাজয়।

রিপাবলিকান পার্টিতেও এখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। দলের অনেক প্রার্থী নির্বাচনে আসন হারানোর ভয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। ফ্লোরিডার গভর্নর পদপ্রার্থী বায়রন ডোনাল্ডস তার ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের অধিকাংশ উল্লেখ সরিয়ে ফেলেছেন। কংগ্রেসওম্যান মারিয়া এলভিরা সালাজারের প্রচার বিজ্ঞাপনে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকে ‘অতিরিক্ত’ বলে সমালোচনা করা হয়েছে এবং লাতিনো ভোটারদের মধ্যে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অনুভূতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিক উইলসনের মতে, রিপাবলিকানরা এতদিন প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বী বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের আক্রমণের ভয়ে চুপ ছিলেন, কিন্তু এখন তাদের কাছে রাজনৈতিক আত্মরক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প রাজনৈতিক বোঝা হয়ে ওঠায় তিনি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন এবং পুরোনো কৌশলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত, সাংস্কৃতিক ইস্যু ও রাজনৈতিক প্রদর্শনীর পথে ফিরছেন। তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অর্থনীতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি খাতে বড় সাফল্যের দাবি করেছে। ট্রাম্পের সামনে এখন আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মনোযোগ ধীরে ধীরে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের দিকে সরে যাচ্ছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো বিল গ্যালস্টন মনে করেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো সম্ভাব্য প্রার্থীদের দিকে মনোযোগ সরে যাওয়া ট্রাম্পের জন্য চরম অস্বস্তিকর। ইতিহাসবিদ অ্যালান লিচম্যান একে ‘দ্বিতীয় মেয়াদের অভিশাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। রক্ষণশীল লেখক চার্লি সাইকসের ভাষায়, ট্রাম্প প্রাসঙ্গিকতা হারানোকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং তিনি নীরবে সরে যাবেন না—বরং এর পরিহাস হচ্ছে, তিনি যত দুর্বল হচ্ছেন, ততই বিপজ্জনক হয়ে উঠছেন।