ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণ ইসলামে এক অনন্য ইবাদত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আমাদের চারপাশের গাছপালা, ঘরবাড়ি, মাটি, পানি, বায়ু, নদীনালা, পাহাড়-পর্বত ও জীবজন্তু নিয়েই গড়ে উঠেছে পরিবেশ। এই বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি মহান আল্লাহর এক অনন্য নেয়ামত। মানুষের মনকে প্রফুল্ল করতে এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতার পরিচয় দিতে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সুরা নাহলের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তিনি তোমাদের জন্য পানি দ্বারা শস্য, জাইতুন, খেজুর গাছ, আঙুর ও সবধরনের ফল জন্মান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।' বনের সবুজ শ্যামলিমায় আল্লাহ পৃথিবীকে সুশোভিত করেছেন এবং গাছপালার মাধ্যমে পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার শিক্ষা দিয়েছেন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা মানুষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, কারণ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানবজাতি ও অন্যান্য জীবজগৎ হুমকির মুখে পড়বে। ইসলাম পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়েছে, যার মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পানির অপচয় রোধ অন্যতম। বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যদি কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তেও তোমাদের কারও হাতে একটি চারা থাকে এবং তা রোপণ করা সম্ভব হয়, তবে সে যেন তা রোপণ করে।' (মুসনাদে আহমদ: ১২৯০২)। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে ঘিরেই সমাজ ও পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে সুরা ইয়াসিনের ৩৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'তাদের জন্য নিদর্শন একটি মৃতভূমি। আমি একে সঞ্জীবিত করি। তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য। তারা তা খায়। আমি তাতে উৎপন্ন করি খেজুর। প্রবাহিত করি ঝর্ণাধারা। যেন তারা তার ফল খায়।'

সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অপরিহার্য। উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, থুথু বা কফ ছিটানো এবং মলমূত্র ত্যাগের মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিচ্ছন্নতার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, 'তোমরা তোমাদের আঙিনাকে পরিচ্ছন্ন রাখো।' (তিরমিজি: ২৭৯৯)। অন্য একটি হাদিসে তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করেছেন (মুসলিম: ২২৩)। এছাড়া, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভূমিকম্প থেকে রক্ষা করতে আল্লাহ পৃথিবীতে পাহাড়কে সুদৃঢ় খুঁটি হিসেবে স্থাপন করেছেন, যা সুরা নাহলের ১৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামে বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে বা কোনো শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা পশু আহার করে, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।' (বোখারি: ২৩২০, মুসলিম: ১৫৬৩)। এমনকি বৃক্ষ রোপণের পর তা ফলবতী হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে পরিচর্যা করলে প্রতিটি নষ্ট হওয়া ফলের বিনিময়েও আল্লাহ নেকি দান করেন এবং ফলের সমপরিমাণ প্রতিদান দেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তাই বন উজাড় করা বা পুড়িয়ে ফেলা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

পানির অপর নাম জীবন এবং পবিত্র কোরআনের প্রায় ৬০টি স্থানে পানি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সব প্রাণ সৃষ্টির মূল উপাদান পানি রক্ষায় ইসলাম অত্যন্ত কঠোর। পানির ঘাট, চলাচলের রাস্তা কিংবা গাছের ছায়ায় মলত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পানিতে প্রস্রাব করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ইবাদতের ক্ষেত্রেও পানির অপচয় করতে নিষেধ করেছে ইসলাম। সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, 'প্রাণবান সবকিছু পানি হতে সৃষ্টি করেছি।'

বর্তমান যুগে শিল্পবিপ্লবের ফলে পরিবেশ দূষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। খাদ্য ও বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। যুদ্ধবিগ্রহ ও পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ, যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যা ঘটেছিল, তা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। মানুষের এই অপকর্মের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা সুরা রুমের ৪১ নম্বর আয়াতে সতর্ক করে বলেছেন, 'মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।' তাই আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ করা সকলের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণ ইসলামে এক অনন্য ইবাদত

আপডেট সময় : ০৭:২৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমাদের চারপাশের গাছপালা, ঘরবাড়ি, মাটি, পানি, বায়ু, নদীনালা, পাহাড়-পর্বত ও জীবজন্তু নিয়েই গড়ে উঠেছে পরিবেশ। এই বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি মহান আল্লাহর এক অনন্য নেয়ামত। মানুষের মনকে প্রফুল্ল করতে এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতার পরিচয় দিতে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সুরা নাহলের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তিনি তোমাদের জন্য পানি দ্বারা শস্য, জাইতুন, খেজুর গাছ, আঙুর ও সবধরনের ফল জন্মান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।' বনের সবুজ শ্যামলিমায় আল্লাহ পৃথিবীকে সুশোভিত করেছেন এবং গাছপালার মাধ্যমে পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার শিক্ষা দিয়েছেন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা মানুষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, কারণ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানবজাতি ও অন্যান্য জীবজগৎ হুমকির মুখে পড়বে। ইসলাম পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়েছে, যার মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পানির অপচয় রোধ অন্যতম। বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যদি কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তেও তোমাদের কারও হাতে একটি চারা থাকে এবং তা রোপণ করা সম্ভব হয়, তবে সে যেন তা রোপণ করে।' (মুসনাদে আহমদ: ১২৯০২)। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে ঘিরেই সমাজ ও পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে সুরা ইয়াসিনের ৩৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'তাদের জন্য নিদর্শন একটি মৃতভূমি। আমি একে সঞ্জীবিত করি। তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য। তারা তা খায়। আমি তাতে উৎপন্ন করি খেজুর। প্রবাহিত করি ঝর্ণাধারা। যেন তারা তার ফল খায়।'

সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অপরিহার্য। উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, থুথু বা কফ ছিটানো এবং মলমূত্র ত্যাগের মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিচ্ছন্নতার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, 'তোমরা তোমাদের আঙিনাকে পরিচ্ছন্ন রাখো।' (তিরমিজি: ২৭৯৯)। অন্য একটি হাদিসে তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করেছেন (মুসলিম: ২২৩)। এছাড়া, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভূমিকম্প থেকে রক্ষা করতে আল্লাহ পৃথিবীতে পাহাড়কে সুদৃঢ় খুঁটি হিসেবে স্থাপন করেছেন, যা সুরা নাহলের ১৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামে বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে বা কোনো শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা পশু আহার করে, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।' (বোখারি: ২৩২০, মুসলিম: ১৫৬৩)। এমনকি বৃক্ষ রোপণের পর তা ফলবতী হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে পরিচর্যা করলে প্রতিটি নষ্ট হওয়া ফলের বিনিময়েও আল্লাহ নেকি দান করেন এবং ফলের সমপরিমাণ প্রতিদান দেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তাই বন উজাড় করা বা পুড়িয়ে ফেলা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

পানির অপর নাম জীবন এবং পবিত্র কোরআনের প্রায় ৬০টি স্থানে পানি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সব প্রাণ সৃষ্টির মূল উপাদান পানি রক্ষায় ইসলাম অত্যন্ত কঠোর। পানির ঘাট, চলাচলের রাস্তা কিংবা গাছের ছায়ায় মলত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পানিতে প্রস্রাব করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ইবাদতের ক্ষেত্রেও পানির অপচয় করতে নিষেধ করেছে ইসলাম। সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, 'প্রাণবান সবকিছু পানি হতে সৃষ্টি করেছি।'

বর্তমান যুগে শিল্পবিপ্লবের ফলে পরিবেশ দূষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। খাদ্য ও বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। যুদ্ধবিগ্রহ ও পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ, যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যা ঘটেছিল, তা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। মানুষের এই অপকর্মের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা সুরা রুমের ৪১ নম্বর আয়াতে সতর্ক করে বলেছেন, 'মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।' তাই আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ করা সকলের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh