ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৮:১৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা বিশাল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ক্রোককৃত সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা বিনিময় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এমটিডিআর (এফডিআর) হিসেবে রেখে আত্মসাৎ এবং অতিরিক্ত দামে জমি কিনে অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধান চলছে। এসব সম্পত্তি ক্রোক করা না হলে তা হস্তান্তর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আদালত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধিত বিধিমালা-২০১৯) এর ১৮ বিধি অনুযায়ী এই ক্রোকের আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের নামে থাকা মোট ২০টি दलিলের সম্পত্তি ক্রোক করা হবে। এসব সম্পত্তি রাজধানী ঢাকা, ভালুকা (ময়মনসিংহ), কুয়াকাটা (পটুয়াখালী), যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, গুলশান, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) ও মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত। দাপ্তরিক ক্রয়মূল্য অনুযায়ী এর পরিমাণ ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুলশানের ৮ কাঠা জমি ও বাড়ি (দলিলমূল্য ১০ কোটি টাকা), কুয়াকাটায় ৬.১৮ একর জমি (দলিলমূল্য ১০.৫৫ কোটি টাকা) এবং উত্তরায় ২১.২১ কাঠা জমি।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ২২টি দলিলের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে অবস্থিত এসব সম্পত্তির দাপ্তরিক ক্রয়মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে গুলশান ও বাড্ডায় বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও জমি এবং খিলক্ষেতে আবাসিক প্লট ও ভবন রয়েছে। দম্পতিটির নামে রেজিস্ট্রিকৃত এসব সম্পত্তির মোট সরকারি ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকারও বেশি, তবে এগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য বহুগুণ।
দুদক জানিয়েছে, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই দায়ের করা একটি মামলাও অন্তর্ভুক্ত। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর অপর একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই এসব সম্পত্তির তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে দুদক। এছাড়া, এই দম্পতির বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে মোট ১০টি অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ৬টিতে তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে এবং ৪টি এখনও তদন্তাধীন। বর্তমানে তিনি দুদকের দায়ের করা ৩৫(০৭)২৫ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ৪০ লাখ গ্রাহকের জমাকৃত ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটও আদালত গ্রহণ করেছেন।





























