আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের
- আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

আদালতের কোনো রায় বা আদেশের বিপরীতে হরতাল, ধর্মঘট কিংবা কর্মবিরতি ডাকার সুযোগ নেই বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক রায়ে এটিকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী বলে উল্লেখ করেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেছেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সব নির্বাহী ও বিচারিক কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের রায় ও আদেশ মেনে চলতে বাধ্য। কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আপিল করার বা আইনানুগ প্রতিকার চাওয়ার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তবে সেই রায়ের প্রতিবাদে হরতাল বা ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি পালন করা বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো হরতাল বা ধর্মঘট ডাকা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এই মামলার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, ২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ‘ডিলাক্স পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত সেই মামলার রায়ে বাসচালকের সাজা ঘোষণা করেন। ওই সাজার প্রতিবাদে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল ডাকলে বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসে।
এ ঘটনায় মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। শুনানির পর ২০১৭ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার ও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
শুনানিতে রিটকারী সংগঠনের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ যুক্তি দেন যে, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। তিনি আদালতকে অবহিত করেন, আপিল করার আইনগত পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের সামিল।



























