মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার
- আপডেট সময় : ০৮:১৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকাকে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। শনিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এলাকায় কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দের অস্তিত্ব রাখা হবে না।
সভায় উপস্থিত ছিলেন র্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওসমান গনি, র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও বাসিন্দারাও এতে অংশ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও পুলিশের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোহাম্মদপুরে অপরাধ প্রবণতা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। গত তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান আগের তিন মাসের সঙ্গে তুলনা করলে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী মাদক ও গ্যাং নির্মূলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাকে তিনি সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে উল্লেখ করে কমিশনার জানান, বিট পুলিশিংকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। পুলিশের কাছে মাদক স্পট ও গ্যাং আস্তানার তালিকা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতেও নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, রাতে গ্যারেজের ভেতরে কাউকে পাওয়া গেলে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এছাড়া কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যৌথভাবে কাজ করবে।
ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আইনগতভাবে অস্ত্র প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা আইনি জটিলতা নিরসন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা হবে। সবশেষে তিনি বলেন, পুলিশ ও জনগণের সমন্বয়ে এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে মোহাম্মদপুরকে একটি নিরাপদ এলাকায় রূপান্তর করা সম্ভব।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।



























