ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক হেনস্তার দুই মাসেও মেলেনি বিচার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহকে মারধর এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজুল কবীর, যিনি মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত, তিনি ফেসবুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য ও প্রকাশ্যে মারধরের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে ইজাজুল কবীর সাংবাদিকদের নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, "সবাই ভুলে গেলেও আমি ভুলতে পারছিনা…। এই ফাত্রামির হিসাব সাংঘাতিক সমিতিকে দিতে হবে…। এখন আসলেই আফসোস হয়, মারলেই ভালো হতো…।"

ঘটনার সূত্রপাত ৭ জুলাই, যখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হয়। ওই ঘটনার পর প্রক্টর ও প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ। তিনি জানান, ঘটনার ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসন নীরব রয়েছে। তিনি প্রতিশোধ নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

সেদিন ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইমরান হোসেন, চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি সাব্বির আহমেদ। ইমরান হোসেন বলেন, ভিডিও ধারণের সময় তাদের ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং তাকে বুকে ধাক্কা দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশাসনই ভালো বলতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান দাবি করেন, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সচেতন এবং উচ্চতর কমিটি গঠনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর জানান, আগামী ২৯ তারিখে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তিনি সাংবাদিকদের আইনি ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইজাজুল কবীর তার ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে বলেন, প্রশাসন বিচার না করায় তিনি যা ইচ্ছা পোস্ট করবেন এবং সাংবাদিকদের প্রক্টরের কাছে প্রমাণ জমা দিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক হেনস্তার দুই মাসেও মেলেনি বিচার

আপডেট সময় : ০২:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহকে মারধর এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজুল কবীর, যিনি মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত, তিনি ফেসবুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য ও প্রকাশ্যে মারধরের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে ইজাজুল কবীর সাংবাদিকদের নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, "সবাই ভুলে গেলেও আমি ভুলতে পারছিনা…। এই ফাত্রামির হিসাব সাংঘাতিক সমিতিকে দিতে হবে…। এখন আসলেই আফসোস হয়, মারলেই ভালো হতো…।"

ঘটনার সূত্রপাত ৭ জুলাই, যখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হয়। ওই ঘটনার পর প্রক্টর ও প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ। তিনি জানান, ঘটনার ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসন নীরব রয়েছে। তিনি প্রতিশোধ নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

সেদিন ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইমরান হোসেন, চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি সাব্বির আহমেদ। ইমরান হোসেন বলেন, ভিডিও ধারণের সময় তাদের ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং তাকে বুকে ধাক্কা দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশাসনই ভালো বলতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান দাবি করেন, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সচেতন এবং উচ্চতর কমিটি গঠনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর জানান, আগামী ২৯ তারিখে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তিনি সাংবাদিকদের আইনি ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইজাজুল কবীর তার ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে বলেন, প্রশাসন বিচার না করায় তিনি যা ইচ্ছা পোস্ট করবেন এবং সাংবাদিকদের প্রক্টরের কাছে প্রমাণ জমা দিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin