ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

খুলনায় অপরাধ সাম্রাজ্য: সক্রিয় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপ, বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কিশোর গ্যাংয়ের হাত ধরে খুলনার অপরাধ জগতে উত্থান ঘটেছে নয়টি শক্তিশালী সন্ত্রাসী গ্রুপের। ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী এসব গ্রুপের সদস্যরা মাদক ব্যবসা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সাথে জড়িত। জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে খুনোখুনি করতেও তারা দ্বিধা করছে না। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এসব সন্ত্রাসীদের তালিকা থাকলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার বা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধের নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা নতুন করে অপরাধের পটভূমি তৈরি করছে।

খুলনা মহানগর ও জেলায় বর্তমানে যে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সেগুলো হলো রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর 'বি-কোম্পানি', শেখ পলাশের 'পলাশ গ্রুপ', হুমায়ুন কবীরের 'হুমা বাহিনী', 'আশিক বাহিনী', 'নূর আজিম গ্রুপ', 'টেংকি শাওন গ্রুপ', আরমান শেখের 'আরমান গ্রুপ', শাকিল শেখের 'শাকিল গ্রুপ' এবং নাসিমুল গণির 'নাসিম গ্রুপ'। এছাড়া দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ এলাকায় ছোট ছোট অস্ত্রধারী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের কার্যক্রম মূলত মাদক, জমি দখল, ঘের, ঘাট, পরিবহন ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দৌলতপুর-মহেশ্বরপাশা এলাকায় এখনো পুরনো চরমপন্থি ধারার সন্ত্রাসীদের উত্তরাধিকারীদের প্রভাব দেখা যায়।

খুলনার অপরাধ জগতের সবচেয়ে আলোচিত নাম রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবু। ২০০৪ সালে তৎকালীন মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমানের গাড়িতে গ্রেনেড হামলার পর থেকে তার নামের সাথে এই উপাধি যুক্ত হয়। দাউদ ইব্রাহিমের অনুকরণে সে তার দলকে 'বি-কোম্পানি' নাম দিয়েছে এবং নিজেকে 'নবাব' হিসেবে পরিচয় দেয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাবু বিদেশ থেকেই তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। খুলনা মহানগরের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরসহ অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তার ভাই জনি চৌধুরী শ্রমিক দল নেতা মাসুম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্তি পায়। জনি চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিঅ্যান্ডএফ ভবন দখলের অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে, এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা শেখ পলাশ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর খুলনার মিস্ত্রিপাড়া, বানরগাতি, আরামবাগ, নিরালা, পশ্চিম বানিয়াখামার, রূপসা বাগমারা ও সোনাডাঙ্গা এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাবু ও পলাশ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছিল। ২০২৫ সালের ৩০শে মার্চ চার ঘণ্টার অভিযানে যৌথ বাহিনী সোনাডাঙ্গা থেকে অস্ত্রসহ শেখ পলাশ ও তার ১০ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পলাশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাবু পুনরায় অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন। কারাগারেও এই দুই গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে অপরাধ জগতের মেরুকরণ ঘটেছে; যেমন হুমা গ্রুপ এখন বি-কোম্পানির সাথে এবং আশিক বাহিনী পলাশ গ্রুপের সাথে মিলেমিশে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম (মনা) বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নেই এবং প্রকাশ্যে খুনের ঘটনা ঘটছে। এর জবাবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য গোয়েন্দা টিম তৎপর রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনায় অপরাধ সাম্রাজ্য: সক্রিয় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপ, বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

আপডেট সময় : ০২:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোর গ্যাংয়ের হাত ধরে খুলনার অপরাধ জগতে উত্থান ঘটেছে নয়টি শক্তিশালী সন্ত্রাসী গ্রুপের। ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী এসব গ্রুপের সদস্যরা মাদক ব্যবসা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সাথে জড়িত। জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে খুনোখুনি করতেও তারা দ্বিধা করছে না। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এসব সন্ত্রাসীদের তালিকা থাকলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার বা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধের নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা নতুন করে অপরাধের পটভূমি তৈরি করছে।

খুলনা মহানগর ও জেলায় বর্তমানে যে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সেগুলো হলো রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর 'বি-কোম্পানি', শেখ পলাশের 'পলাশ গ্রুপ', হুমায়ুন কবীরের 'হুমা বাহিনী', 'আশিক বাহিনী', 'নূর আজিম গ্রুপ', 'টেংকি শাওন গ্রুপ', আরমান শেখের 'আরমান গ্রুপ', শাকিল শেখের 'শাকিল গ্রুপ' এবং নাসিমুল গণির 'নাসিম গ্রুপ'। এছাড়া দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ এলাকায় ছোট ছোট অস্ত্রধারী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের কার্যক্রম মূলত মাদক, জমি দখল, ঘের, ঘাট, পরিবহন ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দৌলতপুর-মহেশ্বরপাশা এলাকায় এখনো পুরনো চরমপন্থি ধারার সন্ত্রাসীদের উত্তরাধিকারীদের প্রভাব দেখা যায়।

খুলনার অপরাধ জগতের সবচেয়ে আলোচিত নাম রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবু। ২০০৪ সালে তৎকালীন মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমানের গাড়িতে গ্রেনেড হামলার পর থেকে তার নামের সাথে এই উপাধি যুক্ত হয়। দাউদ ইব্রাহিমের অনুকরণে সে তার দলকে 'বি-কোম্পানি' নাম দিয়েছে এবং নিজেকে 'নবাব' হিসেবে পরিচয় দেয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাবু বিদেশ থেকেই তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। খুলনা মহানগরের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরসহ অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তার ভাই জনি চৌধুরী শ্রমিক দল নেতা মাসুম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্তি পায়। জনি চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিঅ্যান্ডএফ ভবন দখলের অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে, এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা শেখ পলাশ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর খুলনার মিস্ত্রিপাড়া, বানরগাতি, আরামবাগ, নিরালা, পশ্চিম বানিয়াখামার, রূপসা বাগমারা ও সোনাডাঙ্গা এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাবু ও পলাশ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছিল। ২০২৫ সালের ৩০শে মার্চ চার ঘণ্টার অভিযানে যৌথ বাহিনী সোনাডাঙ্গা থেকে অস্ত্রসহ শেখ পলাশ ও তার ১০ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পলাশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাবু পুনরায় অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন। কারাগারেও এই দুই গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে অপরাধ জগতের মেরুকরণ ঘটেছে; যেমন হুমা গ্রুপ এখন বি-কোম্পানির সাথে এবং আশিক বাহিনী পলাশ গ্রুপের সাথে মিলেমিশে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম (মনা) বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নেই এবং প্রকাশ্যে খুনের ঘটনা ঘটছে। এর জবাবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য গোয়েন্দা টিম তৎপর রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin