ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানববন্ধন, ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ মানবজমিন-এ রিপোর্টার পদে লিখিত পরীক্ষা ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশালে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ ভাঙ্গায় ১২০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ মা-মেয়েসহ তিনজন আটক জুড়ী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৩৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ নতুন তিন আইনে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা সংকুচিত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়ান নবীনগরে নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দিলেন শারমিন সুলতানা জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচি ও কূটনৈতিক তৎপরতা টাঙ্গাইলে রডের বদলে বাঁশ: সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: নেপথ্যে প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চট্টগ্রাম নগরীতে বর্তমানে প্রায় ২০০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে। ‘ডেঞ্জার’, ‘ফোর জিরো সেভেন’, ‘পাইথন’, ‘বিগু’, ‘এমবিএস’, ‘কেবি’, ‘এনএস’ ও ‘ট্রিপল নাইন’-এর মতো নামধারী এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। দেশীয় অস্ত্র ও মাদক নিয়ে রাত নামলেই এরা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক—কেউই তাদের টার্গেট থেকে রেহাই পাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গ্যাংয়ের পেছনে অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’ প্রশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছেন।

সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য স্কুল-কলেজেও ছড়িয়ে পড়েছে। লোহাগাড়ার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ হোসাইনকে গত শনিবার দুপুর দেড়টায় অপহরণের চেষ্টা চালায় সহপাঠী আরিয়ান মো. আয়ান ও তার ৪-৫ সহযোগী। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলেও, অপহরণকারীকে পুলিশে সোপর্দ করায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ‘ডেভিড জিহাদ’ পরিচয় দিয়ে গুম ও খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ পশ্চিম আমিরাবাদের খৈয়ারকুলের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

গ্যাংগুলোর সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। গত ১২ই এপ্রিল চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই গ্যাংয়ের সংঘর্ষে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ নিহত হন। তাকে মারধরের পর নির্মাণাধীন ভবনের লিফটে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি পাহাড়তলীতে পূর্ববিরোধের জেরে ১০-১৫ জন কিশোর মিলে আকাশ দাশ নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ ঘটনায় র‌্যাব ২০ বছর বয়সী দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মুরাদপুর, চকবাজার, জামালখান, গণি বেকারি, হালিশহর, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় গ্যাংগুলোর তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। কোনো কোনো গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত। জামালখানে ‘ডেঞ্জার গ্রুপ’ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর জানান, আগে তারা আড়ালে থাকলেও এখন প্রকাশ্যে এসে ভয় দেখিয়ে চাঁদা তুলছে। চকবাজারকেন্দ্রিক ‘ফোর জিরো সেভেন’ গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যাও ১০০ থেকে ১৫০ জন। গত ৪ঠা এপ্রিল বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে আধিপত্য নিয়ে মোরশেদ খান ও শওকত খান গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশ ১৯-২০ বছর বয়সী চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাঁচলাইশের ‘মোহাম্মদপুর বয়েজ সিন্ডিকেট-এমবিএস’ গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৯ সদস্য গ্রেপ্তারের পর আবার সংগঠিত হচ্ছে।

সিএমপি’র তথ্যমতে, স্টেশন রোড, বিআরটিসি মোড়, কদমতলী, সিআরবি, খুলশি, ফয়’স লেক, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, বন্দর ও পতেঙ্গায় সন্ধ্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ে। গত ১লা মার্চ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, যার মধ্যে ৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্য। ২৮শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও ফেনীতে অভিযান চালিয়ে ৬টি গ্যাংয়ের ২৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সম্প্রতি র‌্যাব শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী কিশোর গ্যাং লিডার ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে গ্রেপ্তার করেছে।

জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এসপি মাসুদ আলমের তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম পরিচালক ডেভিড ইমন ও ‘গলাকাটা’ মোবারক গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ বলছে, এই গ্রেপ্তারে নগরীর কয়েকটি গ্যাংয়ের নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে। রাউজানকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী রায়হানকে ধরতেও অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেনের মতে, পরিবার ও স্কুলের নজরদারির অভাব, মাদক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব কিশোরদের অপরাধে টানছে। সংশোধন কেন্দ্রগুলোও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজি দমনে পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

পাঁচলাইশের হামজারবাগ-মোহাম্মদপুরে সক্রিয় ‘মোহাম্মদপুর বয়েজ সিন্ডিকেট-এমবিএস’। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৬-১৭ বছর বয়সী ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর কিছুদিন চুপ থাকলেও তারা আবার সংগঠিত হচ্ছে। সিএমপি’র তথ্যমতে, স্টেশন রোড, বিআরটিসি মোড়, কদমতলী, সিআরবি, খুলশি, ফয়’স লেক, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, বন্দর ও পতেঙ্গায় সন্ধ্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ে। মোটরসাইকেল, সাইকেল আর পথচারীদের সর্বস্ব ছিনতাই করছে। পাশাপাশি চালাচ্ছে মাদক বিক্রি। গত ১লা মার্চ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্য। ২৮শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও ফেনীতে অভিযান চালিয়ে ৬টি গ্যাংয়ের ২৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।সম্প্রতি র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে কিশোর গ্যাং লিডার ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে। সে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: নেপথ্যে প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’

আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীতে বর্তমানে প্রায় ২০০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে। ‘ডেঞ্জার’, ‘ফোর জিরো সেভেন’, ‘পাইথন’, ‘বিগু’, ‘এমবিএস’, ‘কেবি’, ‘এনএস’ ও ‘ট্রিপল নাইন’-এর মতো নামধারী এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। দেশীয় অস্ত্র ও মাদক নিয়ে রাত নামলেই এরা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক—কেউই তাদের টার্গেট থেকে রেহাই পাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গ্যাংয়ের পেছনে অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’ প্রশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছেন।

সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য স্কুল-কলেজেও ছড়িয়ে পড়েছে। লোহাগাড়ার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ হোসাইনকে গত শনিবার দুপুর দেড়টায় অপহরণের চেষ্টা চালায় সহপাঠী আরিয়ান মো. আয়ান ও তার ৪-৫ সহযোগী। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলেও, অপহরণকারীকে পুলিশে সোপর্দ করায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ‘ডেভিড জিহাদ’ পরিচয় দিয়ে গুম ও খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ পশ্চিম আমিরাবাদের খৈয়ারকুলের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

গ্যাংগুলোর সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। গত ১২ই এপ্রিল চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই গ্যাংয়ের সংঘর্ষে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ নিহত হন। তাকে মারধরের পর নির্মাণাধীন ভবনের লিফটে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি পাহাড়তলীতে পূর্ববিরোধের জেরে ১০-১৫ জন কিশোর মিলে আকাশ দাশ নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ ঘটনায় র‌্যাব ২০ বছর বয়সী দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মুরাদপুর, চকবাজার, জামালখান, গণি বেকারি, হালিশহর, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় গ্যাংগুলোর তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। কোনো কোনো গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত। জামালখানে ‘ডেঞ্জার গ্রুপ’ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর জানান, আগে তারা আড়ালে থাকলেও এখন প্রকাশ্যে এসে ভয় দেখিয়ে চাঁদা তুলছে। চকবাজারকেন্দ্রিক ‘ফোর জিরো সেভেন’ গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যাও ১০০ থেকে ১৫০ জন। গত ৪ঠা এপ্রিল বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে আধিপত্য নিয়ে মোরশেদ খান ও শওকত খান গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশ ১৯-২০ বছর বয়সী চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাঁচলাইশের ‘মোহাম্মদপুর বয়েজ সিন্ডিকেট-এমবিএস’ গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৯ সদস্য গ্রেপ্তারের পর আবার সংগঠিত হচ্ছে।

সিএমপি’র তথ্যমতে, স্টেশন রোড, বিআরটিসি মোড়, কদমতলী, সিআরবি, খুলশি, ফয়’স লেক, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, বন্দর ও পতেঙ্গায় সন্ধ্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ে। গত ১লা মার্চ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, যার মধ্যে ৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্য। ২৮শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও ফেনীতে অভিযান চালিয়ে ৬টি গ্যাংয়ের ২৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সম্প্রতি র‌্যাব শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী কিশোর গ্যাং লিডার ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে গ্রেপ্তার করেছে।

জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এসপি মাসুদ আলমের তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম পরিচালক ডেভিড ইমন ও ‘গলাকাটা’ মোবারক গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ বলছে, এই গ্রেপ্তারে নগরীর কয়েকটি গ্যাংয়ের নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে। রাউজানকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী রায়হানকে ধরতেও অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেনের মতে, পরিবার ও স্কুলের নজরদারির অভাব, মাদক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব কিশোরদের অপরাধে টানছে। সংশোধন কেন্দ্রগুলোও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজি দমনে পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

পাঁচলাইশের হামজারবাগ-মোহাম্মদপুরে সক্রিয় ‘মোহাম্মদপুর বয়েজ সিন্ডিকেট-এমবিএস’। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৬-১৭ বছর বয়সী ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর কিছুদিন চুপ থাকলেও তারা আবার সংগঠিত হচ্ছে। সিএমপি’র তথ্যমতে, স্টেশন রোড, বিআরটিসি মোড়, কদমতলী, সিআরবি, খুলশি, ফয়’স লেক, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, বন্দর ও পতেঙ্গায় সন্ধ্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ে। মোটরসাইকেল, সাইকেল আর পথচারীদের সর্বস্ব ছিনতাই করছে। পাশাপাশি চালাচ্ছে মাদক বিক্রি। গত ১লা মার্চ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্য। ২৮শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও ফেনীতে অভিযান চালিয়ে ৬টি গ্যাংয়ের ২৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।সম্প্রতি র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে কিশোর গ্যাং লিডার ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে। সে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin