ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

গভীর সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও ২৬ ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গভীর সমুদ্রে নতুন একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি ২০৩০-৩১ সাল নাগাদ ১৫০টি নতুন কূপ খননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সাথে সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে, যার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এছাড়া স্থলভাগে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য 'বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬' প্রণয়ন করা হচ্ছে। শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি ভাসমান এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এছাড়া পায়রা, মোংলা বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলের সুবিধাজনক স্থানে আরও একটি গভীর সমুদ্র টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক প্রকল্প থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বায়ু, বর্জ্য, পানি ও কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। সৌর অবকাঠামো আমদানিতে শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সুবিধা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত স্থাপনকারী গ্রাহকদের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

গভীর সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও ২৬ ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

আপডেট সময় : ১২:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গভীর সমুদ্রে নতুন একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি ২০৩০-৩১ সাল নাগাদ ১৫০টি নতুন কূপ খননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সাথে সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে, যার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এছাড়া স্থলভাগে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য 'বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬' প্রণয়ন করা হচ্ছে। শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি ভাসমান এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এছাড়া পায়রা, মোংলা বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলের সুবিধাজনক স্থানে আরও একটি গভীর সমুদ্র টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক প্রকল্প থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বায়ু, বর্জ্য, পানি ও কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। সৌর অবকাঠামো আমদানিতে শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সুবিধা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত স্থাপনকারী গ্রাহকদের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din