ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দুই মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা শাড়িকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা, অভিযোগ করলেন সম্মানহানির ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণই মূল লক্ষ্য: মমতা ভারতে ভিনিসিয়ুসের প্রথম সফর: গোয়ায় খেলেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে, তেলের দাম কমবে: ট্রাম্প গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত: জয়সোয়াল সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার মাধবদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



অস্ট্রিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে মাথা ঢাকার পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, দেশটির সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের স্কুলে হিজাব বা বোরকার মতো ‘ঐতিহ্যবাহী মুসলিম’ মাথা ঢাকার পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দেশটির রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (ওভিপি) থেকে আসা একীভূতকরণবিষয়ক মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, হিজাব হলো ‘নিপীড়নের প্রতীক এবং শৈশবের শুরু থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম।’ রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন ওভিপি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিও) এবং উদারপন্থী নিওস—এই তিন মধ্যপন্থী দলের জোট আইনটি প্রণয়ন করেছে। তাদের দাবি, তরুণীদের অধিকার সুরক্ষা এবং লিঙ্গসমতার প্রতি অঙ্গীকার থেকেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তবে এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেকে। অস্ট্রিয়ার সরকারি ইসলামিক কমিউনিটির (আইজিজিও) কার্লা আমিনা বাগাজাতি বিবিসিকে বলেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করছেন। তিনি দাবি করেন, এই আইন ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করছে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর অসম প্রভাব ফেলছে। সমালোচকদের মতে, এই আইন অস্ট্রিয়ায় মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে এবং এটি অসাংবিধানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন বাতিল করেছিল, কারণ তা দেশটির ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

নতুন এই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর দেয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে হিজাব পরা অবস্থায় পাওয়া গেলে শিক্ষককে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করতে হবে। বারবার আইন লঙ্ঘন করা হলে বিষয়টি শিশু সেবা বিভাগকে জানানোর বিধান রাখা হয়েছে। সবশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো বা ৬৮৫ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

এদিকে দেশটির উগ্র ডানপন্থী দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) বলছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। এফপিও’র রিকার্ডা বার্গার দাবি করেছেন, অস্ট্রিয়ার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য হিজাব এবং মুখঢাকা পোশাক—উভয়ের ওপরই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক ইসলামের কোনো স্থান নেই, আর আমাদের স্কুলগুলোতে তো অবশ্যই নয়।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ট্রিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে মাথা ঢাকার পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, দেশটির সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের স্কুলে হিজাব বা বোরকার মতো ‘ঐতিহ্যবাহী মুসলিম’ মাথা ঢাকার পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দেশটির রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (ওভিপি) থেকে আসা একীভূতকরণবিষয়ক মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, হিজাব হলো ‘নিপীড়নের প্রতীক এবং শৈশবের শুরু থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম।’ রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন ওভিপি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিও) এবং উদারপন্থী নিওস—এই তিন মধ্যপন্থী দলের জোট আইনটি প্রণয়ন করেছে। তাদের দাবি, তরুণীদের অধিকার সুরক্ষা এবং লিঙ্গসমতার প্রতি অঙ্গীকার থেকেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তবে এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেকে। অস্ট্রিয়ার সরকারি ইসলামিক কমিউনিটির (আইজিজিও) কার্লা আমিনা বাগাজাতি বিবিসিকে বলেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করছেন। তিনি দাবি করেন, এই আইন ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করছে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর অসম প্রভাব ফেলছে। সমালোচকদের মতে, এই আইন অস্ট্রিয়ায় মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে এবং এটি অসাংবিধানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন বাতিল করেছিল, কারণ তা দেশটির ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

নতুন এই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর দেয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে হিজাব পরা অবস্থায় পাওয়া গেলে শিক্ষককে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করতে হবে। বারবার আইন লঙ্ঘন করা হলে বিষয়টি শিশু সেবা বিভাগকে জানানোর বিধান রাখা হয়েছে। সবশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো বা ৬৮৫ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

এদিকে দেশটির উগ্র ডানপন্থী দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) বলছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। এফপিও’র রিকার্ডা বার্গার দাবি করেছেন, অস্ট্রিয়ার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য হিজাব এবং মুখঢাকা পোশাক—উভয়ের ওপরই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক ইসলামের কোনো স্থান নেই, আর আমাদের স্কুলগুলোতে তো অবশ্যই নয়।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin