ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিক্ষোভকারীদের মুক্তি না দিলে অনশনের হুঁশিয়ারি সোনম ওয়াংচুকের দিল্লিতে সিজেপি প্রধান দিপকে আটক, আন্দোলনের নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডে প্রাচীন মিশরীয় চিকিৎসা ও মস্তিষ্কের আঘাতের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কোটালীপাড়ায় পোস্টার লাগানোর সময় ধারালো ছুরিসহ যুবক আটক নিকাব নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কোনো নির্দেশ দিইনি, ভিডিও বার্তায় দাবি শিক্ষকের গণভোটকে অবৈধ বললে বিএনপি সরকারও অবৈধ হবে: মামুনুল হক এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসে ফের পরীক্ষার সুযোগের চিন্তা সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল হওয়ার পথে বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সিজেপির বিক্ষোভ ঠেকাতে মোদি সরকারের গোপন নজরদারি ও ধরপাকড় নির্ভরশীলতা নয়, অংশীদারত্বে বিশ্বাসী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৭.৮ শতাংশ দাবি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের সন্দেহ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে নরেন্দ্র মোদি সরকার দাবি করেছে। কেন্দ্র এই পরিসংখ্যানকে দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরলেও, অর্থনীতিবিদ এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলে এই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান নিয়ে সরাসরি সন্দেহ প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন এবং প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গার্গ। তারা ছাড়াও আরও অনেক অর্থনীতিবিদ নতুন জিডিপি হিসাবের পদ্ধতি ও এর ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছেন। যদিও কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয় এই হিসাবের পেছনের সংশোধিত পদ্ধতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বিতর্ক নিরসনের চেষ্টা করেছে, তবুও বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক তথ্যে বিকৃতি ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গার্গ। তিনি ‘দ্য কুইন্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে দাবি করেছেন যে, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি সরকারের ঘোষিত ৭.৮ শতাংশের চেয়ে অনেক কম, যা প্রায় ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি। গার্গের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি ছিল ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি রুপি, যা ২০২৭ অর্থবছরের একই সময়ে ৮৮.২৭ লক্ষ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এই হিসাবটি নামমাত্র বা বর্তমান মূল্যের জিডিপি পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গার্গের মতে, এর সাথে ২ থেকে ২.৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি বা জিডিপি ডিফ্লেটরের প্রভাব যুক্ত করলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়। এছাড়াও তিনি অতীতের জিডিপি পরিসংখ্যান সংশোধনের ফলে বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার কৃত্রিমভাবে বেশি দেখাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা এই ইস্যুটি তুলে ধরে কেন্দ্রের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, গত বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কম দেখিয়ে এ বছরের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতার পতন, সঞ্চয়ের সংকোচন এবং কর্মসংস্থানের স্থবিরতার মতো সাধারণ মানুষের বাস্তব অবস্থার সাথে এই ৭.৮ শতাংশের প্রবৃদ্ধির দাবির কোনো মিল নেই। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোদি সরকারের অধীনে অর্থ ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুভাষচন্দ্র গার্গের এই মূল্যায়নকে তাই গুরুত্বের সাথে দেখছে বিরোধী দলটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৭.৮ শতাংশ দাবি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের সন্দেহ

আপডেট সময় : ১২:২১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে নরেন্দ্র মোদি সরকার দাবি করেছে। কেন্দ্র এই পরিসংখ্যানকে দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরলেও, অর্থনীতিবিদ এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলে এই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান নিয়ে সরাসরি সন্দেহ প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন এবং প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গার্গ। তারা ছাড়াও আরও অনেক অর্থনীতিবিদ নতুন জিডিপি হিসাবের পদ্ধতি ও এর ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছেন। যদিও কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয় এই হিসাবের পেছনের সংশোধিত পদ্ধতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বিতর্ক নিরসনের চেষ্টা করেছে, তবুও বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক তথ্যে বিকৃতি ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গার্গ। তিনি ‘দ্য কুইন্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে দাবি করেছেন যে, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি সরকারের ঘোষিত ৭.৮ শতাংশের চেয়ে অনেক কম, যা প্রায় ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি। গার্গের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি ছিল ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি রুপি, যা ২০২৭ অর্থবছরের একই সময়ে ৮৮.২৭ লক্ষ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এই হিসাবটি নামমাত্র বা বর্তমান মূল্যের জিডিপি পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গার্গের মতে, এর সাথে ২ থেকে ২.৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি বা জিডিপি ডিফ্লেটরের প্রভাব যুক্ত করলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়। এছাড়াও তিনি অতীতের জিডিপি পরিসংখ্যান সংশোধনের ফলে বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার কৃত্রিমভাবে বেশি দেখাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা এই ইস্যুটি তুলে ধরে কেন্দ্রের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, গত বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কম দেখিয়ে এ বছরের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতার পতন, সঞ্চয়ের সংকোচন এবং কর্মসংস্থানের স্থবিরতার মতো সাধারণ মানুষের বাস্তব অবস্থার সাথে এই ৭.৮ শতাংশের প্রবৃদ্ধির দাবির কোনো মিল নেই। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোদি সরকারের অধীনে অর্থ ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুভাষচন্দ্র গার্গের এই মূল্যায়নকে তাই গুরুত্বের সাথে দেখছে বিরোধী দলটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin