গুমের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও বিচার শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বিশ্বজুড়ে গুম হওয়া সকল ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সাধারণত স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্মম পথ বেছে নেয়।
বাংলাদেশের পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ গ্রহণ করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেসময় গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর আটক রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সেই সরকার কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছিল।
বর্তমান সরকার এই গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম হওয়া মানে কেবল একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যু। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর অনেকে ফিরে আসলেও ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষ আজও নিখোঁজ। তিনি রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদের আলোকে গুমের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ অনুযায়ী এই জঘন্য অপরাধে জড়িতদের জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।





























