মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা ও ভারতের উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ১২:২০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার সদ্য স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ঢাকাকে ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় অসমতা কাটিয়ে একটি স্বাধীন ও পরিপক্ক পররাষ্ট্রনীতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তুরস্কের এই নতুন কৌশল ভারতের সামরিক ও কৌশলগত বলয়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অনেকটা ‘মাথা বাংলাদেশের, ব্যথা ভারতের’ প্রবাদের মতো।
সদ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়া হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যে ঢাকা-আঙ্কারা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পাওয়ায় দিল্লির অস্বস্তি বেড়েছে। বিশ্লেষক ড. ইমরান হোসাইন আনসারী জানান, এই জোটে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য যেমন বড় সুযোগ, তেমনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম বড় উৎস এবং এলএনজি ও এনার্জি খাতে বড় ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র হতে পারে। এছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তানের কাছ থেকে ড্রোন, জেএফ ৭০ ফাইটারস এবং নেভাল প্ল্যাটফর্ম প্রযুক্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
তুর্কি দৈনিক 'ইয়েনি শাফাক’র বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি কেবল সাধারণ কোনো পত্রিকা নয়; এটি তুরস্কের বর্তমান ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী দল ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বেশ ঘনিষ্ঠ। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে সংবাদপত্রটি বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে আসছে এবং ঢাকার নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে তা একটি বহুমুখী নিরাপত্তা কাঠামোর বার্তা দেবে। এর ফলে ভারত তার ৪,০৯৬ কিলোমিটারের দীর্ঘ স্থলসীমান্তটি আগ্রাসনের কেন্দ্র না হয়ে শান্তির সীমানা হিসেবেই থাকবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্যভাবে ওই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নয়াদিল্লি এই ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে ন্যাটো-ধাঁচের সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ সরাসরি সদস্যপদ না নিয়ে প্রথমে সহযোগী সদস্যপদ নিয়ে ভারতের সাথে বিদ্যমান তিস্তা ও গঙ্গা চুক্তিসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে দরকষাকষি করতে পারে। এছাড়া ৫.২৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য এই জোটের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।



























