ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীপুরের কলেজে অনৈতিক অডিও ফাঁস, তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ইমরান খানকে সৎ দাবি করে কেঁদে ফেললেন জাভেদ মিয়াঁদাদ, চাইলেন মুক্তি ভালো আইনজীবী হতে মামলার খুঁটিনাটি জানা জরুরি: চিফ প্রসিকিউটর নারায়ণগঞ্জে খেলনা বন্দুক নিয়ে ভিডিও তৈরি: দুই তরুণ গ্রেপ্তার গণরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে: এটিএম আজহারুল ডাব চুরি করতে গিয়ে ভিমরুলের কামড়ে গাছ থেকে পড়ে আহত চোর বাহুবলে প্রতিপক্ষের হামলায় পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সায়েদ মিয়ার মৃত্যু ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৬ জন নেপালে বন্যার প্রবল স্রোতেও অক্ষত সবুজ বাড়ি, নিরাপদে বাঁচল পরিবার

সুখ সূচকে কেন পিছিয়ে মুসলিম দেশগুলো? উঠে এলো নতুন তথ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুখ মানুষের চিরন্তন এক আকাঙ্ক্ষা। জীবনভর মানুষ শান্তি, আনন্দ ও পরিতৃপ্তির পেছনে ছোটে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা মাথাপিছু আয় বাড়লেই যে মানুষ প্রকৃত অর্থে সুখী হয়, এমন কোনো সরল সমীকরণ নেই। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট বা বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনের সর্বশেষ ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। তালিকায় টানা নবম বারের মতো শীর্ষে রয়েছে ফিনল্যান্ড। এছাড়া আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, কোস্টারিকা, সুইডেন ও নরওয়ে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে অবস্থান করছে।

তালিকায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনক। শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে কোনো মুসলিম দেশ নেই। শীর্ষ ৫০-এ রয়েছে মাত্র চারটি দেশ এবং ১০০-এর মধ্যে মাত্র ১৮টি। সামগ্রিকভাবে পুরো তালিকায় মুসলিম দেশের সংখ্যা ৩৭টি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২১, সৌদি আরব ২২, কুয়েত ৩০ ও কাজাখস্তান ৪৩তম স্থানে রয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই পিছিয়ে পড়ার পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তব পরিস্থিতি বেশি দায়ী। অনেক মুসলিম দেশ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, বেকারত্ব, দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন-২০২৬ অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। জরিপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের এই অবস্থানকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে করছেন গবেষকরা। উদ্বেগের বিষয় হলো, সুখের সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান এবং দীর্ঘদিনের নানা সংকটে জর্জরিত সোমালিয়াও। দেশ তিনটির অবস্থান যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৯তম ও ১২২তম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের মতে, মানুষের সুখ কেবল আয়ের ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক সহায়তা, পারস্পরিক আস্থা, সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের প্রতি উদারতা ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা সুখের সূচকে বড় প্রভাব ফেলে।

অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, যানজট এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো মানুষের জীবনসন্তুষ্টিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তিনি মনে করেন, প্রবৃদ্ধির সুফল যদি সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে, তবে জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক মূল্যায়ন তৈরি হওয়া কঠিন।

অন্যদিকে ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলো শীর্ষে থাকার কারণ হিসেবে তাদের শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দায়ী করা হয়। সেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হয় এবং নাগরিকদের জন্য শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা এবং কাজের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ নাগরিকদের মনে বাড়তি দুশ্চিন্তা দূর করে। পরিশেষে, সুখ কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা যেখানে মানুষ নিরাপদ বোধ করবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হতে পারবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সুখ সূচকে কেন পিছিয়ে মুসলিম দেশগুলো? উঠে এলো নতুন তথ্য

আপডেট সময় : ১১:১৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

সুখ মানুষের চিরন্তন এক আকাঙ্ক্ষা। জীবনভর মানুষ শান্তি, আনন্দ ও পরিতৃপ্তির পেছনে ছোটে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা মাথাপিছু আয় বাড়লেই যে মানুষ প্রকৃত অর্থে সুখী হয়, এমন কোনো সরল সমীকরণ নেই। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট বা বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনের সর্বশেষ ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। তালিকায় টানা নবম বারের মতো শীর্ষে রয়েছে ফিনল্যান্ড। এছাড়া আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, কোস্টারিকা, সুইডেন ও নরওয়ে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে অবস্থান করছে।

তালিকায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনক। শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে কোনো মুসলিম দেশ নেই। শীর্ষ ৫০-এ রয়েছে মাত্র চারটি দেশ এবং ১০০-এর মধ্যে মাত্র ১৮টি। সামগ্রিকভাবে পুরো তালিকায় মুসলিম দেশের সংখ্যা ৩৭টি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২১, সৌদি আরব ২২, কুয়েত ৩০ ও কাজাখস্তান ৪৩তম স্থানে রয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই পিছিয়ে পড়ার পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তব পরিস্থিতি বেশি দায়ী। অনেক মুসলিম দেশ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, বেকারত্ব, দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন-২০২৬ অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। জরিপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের এই অবস্থানকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে করছেন গবেষকরা। উদ্বেগের বিষয় হলো, সুখের সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান এবং দীর্ঘদিনের নানা সংকটে জর্জরিত সোমালিয়াও। দেশ তিনটির অবস্থান যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৯তম ও ১২২তম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের মতে, মানুষের সুখ কেবল আয়ের ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক সহায়তা, পারস্পরিক আস্থা, সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের প্রতি উদারতা ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা সুখের সূচকে বড় প্রভাব ফেলে।

অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, যানজট এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো মানুষের জীবনসন্তুষ্টিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তিনি মনে করেন, প্রবৃদ্ধির সুফল যদি সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে, তবে জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক মূল্যায়ন তৈরি হওয়া কঠিন।

অন্যদিকে ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলো শীর্ষে থাকার কারণ হিসেবে তাদের শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দায়ী করা হয়। সেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হয় এবং নাগরিকদের জন্য শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা এবং কাজের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ নাগরিকদের মনে বাড়তি দুশ্চিন্তা দূর করে। পরিশেষে, সুখ কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা যেখানে মানুষ নিরাপদ বোধ করবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হতে পারবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh