ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে নিখোঁজ পর্যটক ইব্রাহিমের মরদেহ সোনাদিয়ায় উদ্ধার নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ দলবাজ ও দলদাসের সূক্ষ্ম পার্থক্য নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ গোপন সূচির রোমাঞ্চ নিয়ে বসছে ৫৩তম টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে হাফ ম্যারাথন: রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে দৌড়বিদের মিলনমেলা ইন্টার মায়ামির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন কিলি গঞ্জালেস প্রকৌশলী অধিকার দিবস উপলক্ষে বেরোবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে ৩২তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ বিএনপি সরকার ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে: সারজিস আলম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ৬ মাস: লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ওয়াশিংটন, অনিশ্চিত মধ্যপ্রাচ্য

টেকসই উন্নয়নে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে প্রায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ২৬ কোটি তরুণ বর্তমানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। আরব বিশ্বের পরিস্থিতি এক্ষেত্রে আরও উদ্বেগজনক, যেখানে তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা টেকসই উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বর্তমান প্রজন্ম আগের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত। তবে দীর্ঘ সময় কর্মসংস্থানের বাইরে থাকলে তাদের মধ্যে হতাশা, বিচ্ছিন্নতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কেবল দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আরব বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো আরও গভীর। এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে এবং ৩০ কোটিরও বেশি তরুণ সেখানে বসবাস করে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যমতে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ১১ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সের অন্তর্ভুক্ত। ২০১০ সালের আরব বসন্তের আগেও এ অঞ্চলে প্রতি চারজন তরুণের মধ্যে একজন বেকার ছিলেন। ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, যা নির্দেশ করে যে তরুণদের বেকারত্ব এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

টেকসই উন্নয়নের মূল দর্শন হওয়া উচিত মানুষ, পরিবেশ ও সমৃদ্ধির সমন্বয়। পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বা কার্বন কমানোর উদ্যোগই টেকসই উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়। কোনো প্রকল্প পরিবেশের জন্য সহায়ক হলেও যদি তা স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে না পারে, তবে তার সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একইভাবে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ টেকসই উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হবে না।

সরকারগুলোর উচিত বড় বিনিয়োগ, অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্পনীতি এবং সবুজ অর্থনীতির উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। এগুলো হলো—প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অর্থনৈতিক মূল্য, উৎপাদনশীল কাজে মানুষের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। তরুণদের কাছে টেকসই উন্নয়ন কেবল ২০৫০ সালের কোনো দূরবর্তী লক্ষ্য নয়; বরং তাদের জন্য এর প্রকৃত অর্থ হলো আজকের কর্মসংস্থান, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং আগামীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

টেকসই উন্নয়নে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে প্রায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ২৬ কোটি তরুণ বর্তমানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। আরব বিশ্বের পরিস্থিতি এক্ষেত্রে আরও উদ্বেগজনক, যেখানে তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা টেকসই উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বর্তমান প্রজন্ম আগের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত। তবে দীর্ঘ সময় কর্মসংস্থানের বাইরে থাকলে তাদের মধ্যে হতাশা, বিচ্ছিন্নতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কেবল দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আরব বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো আরও গভীর। এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে এবং ৩০ কোটিরও বেশি তরুণ সেখানে বসবাস করে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যমতে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ১১ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সের অন্তর্ভুক্ত। ২০১০ সালের আরব বসন্তের আগেও এ অঞ্চলে প্রতি চারজন তরুণের মধ্যে একজন বেকার ছিলেন। ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, যা নির্দেশ করে যে তরুণদের বেকারত্ব এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

টেকসই উন্নয়নের মূল দর্শন হওয়া উচিত মানুষ, পরিবেশ ও সমৃদ্ধির সমন্বয়। পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বা কার্বন কমানোর উদ্যোগই টেকসই উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়। কোনো প্রকল্প পরিবেশের জন্য সহায়ক হলেও যদি তা স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে না পারে, তবে তার সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একইভাবে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ টেকসই উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হবে না।

সরকারগুলোর উচিত বড় বিনিয়োগ, অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্পনীতি এবং সবুজ অর্থনীতির উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। এগুলো হলো—প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অর্থনৈতিক মূল্য, উৎপাদনশীল কাজে মানুষের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। তরুণদের কাছে টেকসই উন্নয়ন কেবল ২০৫০ সালের কোনো দূরবর্তী লক্ষ্য নয়; বরং তাদের জন্য এর প্রকৃত অর্থ হলো আজকের কর্মসংস্থান, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং আগামীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh