দুই ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল ফ্রান্স
- আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের কর্মীদের আটক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার জেরে ফ্রান্সে নিযুক্ত দুই ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্যারিস। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো গত ১৮ আগস্ট এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর ঠিক একদিন আগে ইরানও দুই ফরাসি দূতাবাসকর্মীকে সেদেশে আর ফিরতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ফলে প্যারিস ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ১৯ জুলাই। ফরাসি সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, তেহরানে একটি ব্যক্তিগত স্থানে বৈঠকের সময় ফরাসি দূতাবাসের দুই কর্মীকে আটক করে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী। সে সময় তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের মধ্যে একজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেছে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে তারা ২২ জুলাই প্যারিসে ফিরে যান। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত ভয় দেখানোর চেষ্টা এবং কূটনৈতিক দায়মুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য মন্ড’ (Le Monde)-এর একটি অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, তেহরানে ফ্রান্সের একটি সাংস্কৃতিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করা দুই ইরানি গ্রাফিক ডিজাইনারের সঙ্গে ফরাসি কর্মীদের বৈঠকের সময় এই ঘটনা ঘটে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এটিকে একটি ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ফরাসি পক্ষ একে পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই দেখছে। ওই ঘটনার পর দুই ইরানি শিল্পীকেও আটক করা হয়। ফরাসি সরকারের দাবি, আটক কর্মীদের একজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যদিও ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের তোলা সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত তদন্তের আওতায় থাকা কিছু ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন ওই ফরাসি কর্মীরা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের কূটনৈতিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। গত ১৭ আগস্ট ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, ফরাসি কর্মীরা ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করে ইরানের নাগরিক সমাজকে সহায়তার নামে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছিলেন।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করা তাদের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের স্বাভাবিক অংশ। এর আগে গত ২১ জুলাই ফ্রান্স এই ঘটনার প্রতিবাদে ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিল। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি এখনো কার্যকর হয়নি, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে প্যারিস।




























