গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে হাজারো কারখানা অচল
- আপডেট সময় : ১২:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

তীব্র গ্যাস সংকটের কবলে পড়ে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের অন্তত এক হাজার ভারী শিল্প এবং তৈরি পোশাক কারখানা চরম অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। কাঁচামাল উৎপাদনকারী বিএসআরএম গ্রুপসহ অন্তত ১০০টি গ্যাসনির্ভর ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, অনেক কারখানা উৎপাদন ব্যয় মেটাতে না পেরে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রামের বিএসআরএম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেন গুপ্ত জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, যার ফলে মেশিনারিজে ক্ষতি হচ্ছে। বিএসআরএম-এর দৈনিক আট হাজার টন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এইচএম স্টিলের পরিচালক সারওয়ার আলম জানান, তাদের গোল্ডেন ইস্পাত কারখানা বন্ধ এবং এইচএম স্টিলের দুটি ইউনিটের দিনের শিফট বন্ধ রেখে কেবল রাতে এক শিফটে কোনোমতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। টি কে গ্রুপের পরিচালক তারিক আহমেদ জানান, তাদের কর্ণফুলী স্টিলে গত দুই দিনে কোনো উৎপাদনই হয়নি। এছাড়া জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ দীর্ঘকাল ধরে কম থাকায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
কাচ উৎপাদনকারী শিল্পের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের এক কর্মকর্তা জানান, চুল্লি একবার বন্ধ হয়ে গেলে তা পুনরায় চালু করতে প্রায় এক বছর সময় এবং কয়েকশ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তাই তারা পিডিবি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ দিয়ে কেবল বার্নারগুলো জ্বালিয়ে রেখেছেন।
নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতিও একই রকম। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, নারায়ণগঞ্জের প্রায় পাঁচশ গার্মেন্টস এবং এর সঙ্গে জড়িত লিংকেজ শিল্প ও ডাইং কারখানা গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেনের তথ্যমতে, তাদের দেড়শ কারখানার প্রায় সবই এখন বন্ধ। ফতুল্লা গার্মেন্টসের পরিচালক মিনহাজুল হক জানান, ২৩ জুলাই থেকে তাদের ডাইং বন্ধ এবং মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া সাতটি লবণ ফ্যাক্টরি এবং অধিকাংশ রি-রোলিং মিলও গত দুই-তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিটিং কারখানাগুলোতেও গ্যাস সংকটের কারণে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মেঘনাঘাট শিল্পাঞ্চলে ৩৫টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। আমান ইকোনমিক জোনের জিএম নাদিরুজ্জামান জানান, গ্যাস সংকটে তাদের সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া লিটল স্টার স্পিনিং মিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, তিন সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ এতই কম যে প্রতি পাউন্ড সুতায় তাদের ২৭ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারখানাটির অনুমোদিত গ্যাসচাপ ১০ পিএসআই হলেও পিক আওয়ারে তা ১ থেকে ১ দশমিক ৫ পিএসআইয়ে নেমে যাচ্ছে।


























