১৫ আগস্ট: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় অবস্থান
- আপডেট সময় : ১২:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হামলায় বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। সেই একই ঘটনায় তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ পরিবারের অন্য সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনরাও প্রাণ হারান। এ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর স্ত্রী আরজু মণিসহ আরও বেশ কয়েকজন ওই ঘটনায় নিহত হন। তবে শেখ মুজিবের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্ব তাঁকে বাঙালির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করেছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট পালনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও পরবর্তী সময়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে আগের বছরগুলোর মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্ট পালনের আনুষ্ঠানিকতা এবার আর নেই, যদিও দিনটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক স্মৃতি বহন করে চলেছে।



























