ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে কারের ধাক্কা, সহকারী জজ নিহত এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু আগামীকাল নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলের ৩৮২ শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ ইয়াবাসহ আটক আসামির পরিবারের কাছে ঘুষ দাবি, এসআই ক্লোজড রংপুরকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান রিয়াদের সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেলেন উইল শার্ফ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি: পাসের হার কমায় খালি থাকবে বিপুল আসন দিনাজপুর বোর্ডে এসএসসি: পাশের হার ৫৮.০৫, এগিয়ে মেয়েরা মায়ের মৃত্যুর পর আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন গোবিন্দ

অস্ত্রের মজুত বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্পকে পেন্টাগনের কঠোর নির্দেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পকে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

এর আগে গত বুধবার (৫ আগস্ট) উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি স্মারক পাঠিয়েছেন। এতে আগামী ২১ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্মারকে ফেইনবার্গ উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্র উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রচলিত প্রক্রিয়া আর গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির সময়সীমাও কমিয়ে আনতে হবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল, যা এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময় ১ হাজার ৩০টিতে এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অন্তত ৬৫ শতাংশ কমেছে। একই অবস্থা থাড ইন্টারসেপ্টরের ক্ষেত্রেও; যুদ্ধের আগে ৪৫২টি থাকলেও বর্তমানে তা ২৩৪ থেকে ২৭৮টির মধ্যে রয়েছে।

সিএসআইএসের বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে যে, এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান মন্তব্য করেছেন, এসব ইন্টারসেপ্টরের খুব একটা বিকল্প নেই এবং মজুত শেষ হয়ে গেলে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোলাবারুদের বড় মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পেন্টাগন লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এদিকে, পেন্টাগনের বাজেট ৯০০ বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার করার একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে আটকে রয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইনপ্রণেতাদের বিরোধ চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

অস্ত্রের মজুত বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্পকে পেন্টাগনের কঠোর নির্দেশ

আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
print news

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পকে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

এর আগে গত বুধবার (৫ আগস্ট) উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি স্মারক পাঠিয়েছেন। এতে আগামী ২১ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্মারকে ফেইনবার্গ উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্র উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রচলিত প্রক্রিয়া আর গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির সময়সীমাও কমিয়ে আনতে হবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল, যা এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময় ১ হাজার ৩০টিতে এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অন্তত ৬৫ শতাংশ কমেছে। একই অবস্থা থাড ইন্টারসেপ্টরের ক্ষেত্রেও; যুদ্ধের আগে ৪৫২টি থাকলেও বর্তমানে তা ২৩৪ থেকে ২৭৮টির মধ্যে রয়েছে।

সিএসআইএসের বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে যে, এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান মন্তব্য করেছেন, এসব ইন্টারসেপ্টরের খুব একটা বিকল্প নেই এবং মজুত শেষ হয়ে গেলে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোলাবারুদের বড় মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পেন্টাগন লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এদিকে, পেন্টাগনের বাজেট ৯০০ বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার করার একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে আটকে রয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইনপ্রণেতাদের বিরোধ চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din