ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশের মানুষের অদম্য উদ্ভাবনী শক্তি
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী যথার্থই বলেছিলেন, মানুষ কখনো ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়, আবার কখনো নিজেই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। তবে সেই ইতিহাসের অংশ হওয়ার বিষয়টি আগেভাগে বোঝা কঠিন। মানুষই মূলত ইতিহাস তৈরি করে এবং একে অপরকে শেখায় কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছোট একটি কাজও অনেক সময় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশংসার আশায় কাজ না করে বরং কাজের প্রতি একাগ্রতা বজায় রাখাই আসল।
ইতিহাস তৈরির এমন অনেক নজির ছড়িয়ে আছে আমাদের চারপাশে। উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের সময় লেখকের বাবা পিঠার দোকান দিয়ে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। দোকানের নাম দিয়েছিলেন 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি', যেখানে বৈদ্যুতিক বাতিগুলো হারিকেনের ভেতরে বসিয়ে এক অভিনব আমেজ তৈরি করা হয়েছিল। একইভাবে কক্সবাজারের সায়মন হোটেলের আধুনিক সাজসজ্জায় গ্রামবাংলার মাছ ধরার 'পোলো' বা ঝিনুকের ব্যবহার ছিল ঐতিহ্যের প্রতি এক গভীর মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।
কাজী জসিমুল ইসলাম বাপ্পির কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতেই হয়। দেশের মানুষ যখন ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে অভ্যস্ত ছিল না, তখনই তিনি ই-বুক সিস্টেম নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে 'বাঘ' নামে ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করেন। যদিও শুরুতে তিনি বড় ধরনের ব্যবসায়িক সাফল্য পাননি, তবুও তার সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকা শহরে ইলেকট্রিক গাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
উদ্ভাবনী শক্তির এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। মানিকগঞ্জের জুলহাসের উড়োজাহাজ তৈরি, খুলনার নাজমুলের দুই লাখ টাকায় হেলিকপ্টার নির্মাণ কিংবা বগুড়ার আমির হোসেনের বুলেটপ্রুফ হেলিকপ্টার তৈরির ঘটনাগুলো আমাদের মেধাবী তরুণদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তার বক্তব্যে তরুণ উদ্ভাবকদের এই কাজকে বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবন্ধী হয়েও পায়ে লিখে বিএ পাস করা গাইবান্ধার আয়েশা, যাকে চ্যানেল আই এবং প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা আজ একটি চাকরির সুযোগ করে দিয়েছে, তা এক অনুপ্রেরণার গল্প।
কৃষি ক্ষেত্রে শাইখ সিরাজের ছাদকৃষির মাধ্যমে বিপ্লব এবং প্রকৃতিবিদ মুকিত মজুমদার বাবুর বাঘ সংরক্ষণে হাতিরঝিলে ম্যারাথন র্যালির মতো উদ্যোগগুলো জনসচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এমনকি চ্যানেল আইয়ের শুরুর দিকে প্রকৌশলী মোসাদ্দেক হাসান ও হাসান কামরুল রাকিবের মতো ব্যক্তিদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনগুলোও এক একটি ইতিহাস। এই মেধাবীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহ দিতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।



























